এবছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় ৪৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি। গত বছর পাসশূন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল আরও ২টি বেশি অর্থাৎ ৫০টি।
শুক্রবার (২৮ জুলাই) বেলা ১১টায় সেগুন বাগিচা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল সংক্রান্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, এবছর বছর শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কমেছে। এবার মোট ২ হাজার ৩৫৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী পাস করতে পেরেছে।
এবছরও ফলাফলে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ বছর মোট ছেলে পরীক্ষার্থী ছিল ১০ লাখ ৯ হাজার ৮০৩ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৪০৪ জন এবং মেয়ে পরীক্ষার্থী ছিল ১০ লাখ ৩১ হাজার ৬৪৭ জন। পাস করেছে ৮ লাখ ৪৪ হাজার ৭৩৬ জন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের সারসংক্ষেপ হস্তান্তর করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
শুক্রবার (২৮ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে গণভবনে ২০২৩ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং পরিসংখ্যান প্রধানমন্ত্রীর হাতে দেওয়া হয়। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীও এসময় উপস্থিত ছিলেন।
ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৮০ দশমিক ৩৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষাবোর্ডে জিপিএ-৫ (গ্রেড পয়েন্ট গড়) পেয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ শিক্ষার্থী।
বোর্ডভিত্তিক পাসের হার ও জিপিও-৫
*বরিশাল: পাসের হার ৯০ দশমিক ১৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৩১১ শিক্ষার্থী।
*রাজশাহী: পাসের হার ৮৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬৮৭৭ শিক্ষার্থী।
*যশোর: পাসের হার ৮৬ দশমিক ১৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০৬১৭ শিক্ষার্থী।
*ময়মনসিংহ: পাসের হার ৮৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩১৭৭ শিক্ষার্থী।
*কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড: পাসের হার ৭৮ দশমিক ৪২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১৬২৩ শিক্ষার্থী।
*চট্টগ্রাম: পাসের হার ৭৮ দশমিক ২৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১৪৫০ শিক্ষার্থী।
*ঢাকা শিক্ষাবোর্ড: এবার পসের হার ৭৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এ ছাড়া জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৬৩০৩ শিক্ষার্থী।
*সিলেট: পাসের হার ৭৬ দশমিক ০৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৪৫২ শিক্ষার্থী।
*দিনাজপুর: পাসের হার ৭৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭৪১০ শিক্ষার্থী।
*মাদ্রাসা বোর্ড: পাসের হার ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬২১৩ শিক্ষার্থী।
এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
এবার ৩০ এপ্রিল এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। ২৫ মে পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বোর্ডের ১৪ মে’র পরীক্ষা এবং সব বোর্ডের ১৫ মে’র পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। পরে ১৪ মে’র পরীক্ষা ২৭ মে এবং ১৫ মে’র পরীক্ষা ২৮ মে অনুষ্ঠিত হয়। এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সারাদেশে নিয়মিত ও অনিয়মিতসহ মোট ২০ লাখ ৭২ হাজার ১৬৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।
ই-সময়/সা.এম/এমআরএম