সব সময় সব খানে


শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> সবুজ সরদারকে 'যুবদলের সাধারণ সম্পাদক' হিসেবে দেখতে চায় যুবসমাজ

>> সবুজ সরদারকে 'যুবদলের সাধারণ সম্পাদক' হিসেবে দেখতে চায় যুবসমাজ

>> নিলক্ষিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অফিস ফাঁকির অভিযোগ, হাজিরা খাতায় নেই স্বাক্ষর

>> এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময় বাড়লো আরও ২ দিন

>> এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময় বাড়লো আরও ২ দিন

>> ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

>> বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় জাতীয় কমিটি’ গঠন: আহবায়ক এড.ইসমাইল ও সদস্য সচিব এড.পলাশ কান্তি নাগ

>> হাতিয়ায় ফেরিঘাট থেকে ১৮০০ লিটার চোরাই ডিজেল জব্দ, গ্রেপ্তার ১

>> সিজারিয়ানে হেলথ কেয়ার হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যু, দুই সপ্তাহেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই

>> পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে ইউরিয়া সার ও ভারতীয় গরু আটক

আপনি পড়ছেন : শিক্ষা

গৌরবময় অগ্রযাত্রার ৪৫ বছরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়


আহসান হাবীব রানা -  ইবি প্রতিনিধি। 

eshomoy.com || 2023-11-21 20:26:45
গৌরবময় অগ্রযাত্রার ৪৫ বছরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

বুধবার(২২ নভেম্বর) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিন। স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ৪৫বছরে পদার্পণ করলো। 

১৯৭৯ সালের এই দিনে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ শহরের মধ্যবর্তী শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুর মহাসড়কের পাশে প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়টি। প্রতিষ্ঠা পরবর্তী একুশ শতকের উপযোগী বিশ্বমানের গ্রাজুয়েট ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ভিশন নিয়ে এগিয়ে চলেছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠ।

আরও পড়ুন-বোয়ালখালীতে অবৈধ বালু মহালে অভিযান, ট্রাক জব্দ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন রঙের আলোর জলকানিতে আলোকিত হয়েছে ক্যাম্পাস। আবাসিক হল গুলো যেন সেজেছে নববধূর সাজে। 

স্বাধীনতা পরবর্তী জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ১৯৭৬ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। এটিই ছিল স্বাধীন দেশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রথম ঘোষণা।

এরপর ১৯৭৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম এ বারীকে সভাপতি করে সাত সদস্য বিশিষ্ট ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিকল্পনা কমিটি গঠন করা হয়।

পরিকল্পনা কমিটি ৩টি অনুষদ, ১৮টি বিভাগ, ৩টি ইনস্টিটিউট এবং একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেন। আর্ন্তজাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে নানা প্রতিকুলতা ও সীমাবদ্ধতায় সেই স্বপ্ন আর বাস্তবায়িত হয়নি।

আরও পড়ুন-নাটোরে হত্যা মামলায় স্বামী-স্ত্রীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড

বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮টি অনুষদ, ৩৬টি বিভাগ, একটি ইনস্টিটিউট এবং ১টি ল্যাবরেটরি স্কুল রয়েছে। এর অধীনে রয়েছে প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষার্থী, ৪১৬ জন শিক্ষক, ৪৯৪ জন কর্মকর্তা এবং প্রায় ৬শ কর্মচারী। এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার জন এম.ফিল ও পি.এইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন এই বিদ্যায়তন থেকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ১২ জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রথম ভিসি ড.এ.এন.এ. মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী এবং বর্তমানে ১৩ তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম।

বর্তমানে ১৭৫ একর আয়তনের এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে ২টি প্রশাসনিক ভবন, ৬টি একাডেমিক ভবন, ৫টি ছাত্র হল, ৩টি ছাত্রী হল, একটি অত্যাধুনিক মিলনায়তনসহ ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (টিএসসিসি) ও ক্যাফেটেরিয়া, গ্রন্থাগার, উপাচার্যের বাসভবন, শিক্ষক- কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টার,

আরও পড়ুন-আলমডাঙ্গায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ভ্যান চালকের মৃত্যু

আধুনিক ব্যায়ামাগার, বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ, জাতির পিতার স্মৃতি স্মারক 'মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব', স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের স্মারক মুক্তবাংলা, ভাষা শহিদদের স্মারক শহিদ মিনার, একটি স্মৃতিসৌধ, একটি ডাকঘর, ইবি থানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন ও সুদৃশ্য মফিজ লেক।

এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের উপর বিস্তারিত জ্ঞান অর্জনের জন্য কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, বঙ্গবন্ধু কর্নার এবং একুশে কর্নার। 

এতসব প্রাপ্তির মাঝেও কিছু অপ্রাপ্তিও রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির। আবাসন সংকট এর মধ্যে অন্যতম। বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রায় ১৬ হাজার। কিন্তু মোট আটটি আবাসিক হলে শিক্ষার্থী থাকতে পারছেন প্রায় আট হাজার। এর মধ্যে ছাত্রদের পাঁচটি আর ছাত্রীদের তিনটি।

আরও পড়ুন- গৌরবের স্মারক আমাদের সশস্র বাহিনী দিবস - বাংলাদেশ ন্যাপ

আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও তা আজও সম্ভব হয়নি। ফলে যাতায়াতের জন্য পরিবহন নির্ভর শিক্ষার্থীরা। বছর ঘুরে শিক্ষার্থী বাড়লেও পরিবহন সংকট থেকেই যাচ্ছে।

যার কারণে প্রত্যেক বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ব্যয়ের দশ শতাংশ গুনতে হয় পরিবহনের পেছনে। এছাড়াও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণা কাজ, অঞ্চলভিত্তিক রাজনীতিসহ বেশকিছু সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়টি।

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, ঐতিহ্য ও গৌরবের আরেকটি অধ্যায়ের সূচনায় অতীতের সকল অপ্রাপ্তি, অপূর্ণতা এবং প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে সাফল্যের সাথে সামনের দিকে এগিয়ে যাক ভালোবাসার প্রিয় ক্যাম্পাসটি।

আরও পড়ুন- বাগাতিপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমীর আটক

সকল বাধা বিপত্তি মোকাবিলা করে জঙ্গি, মাদক, অপরাজনীতিমুক্তসহ সেশনজট ও আবাসন সংকট নিরসন করে শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং গবেষণাখাতে এগিয়ে যাবে প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়- এমনটিই প্রত্যাশা তাদের।

দীর্ঘ এই ৪৪ বছরের পথ চলায় নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে কালের অবিচল স্বাক্ষী হয়ে স্বগৌরবে উচ্চ শিক্ষার প্রদীপ্ত মশাল নিয়ে ছুটে চলেছে দেশের প্রতিটি প্রান্তরে। ৪৪ বছরের পথ চলার মাঝে প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি নিয়ে কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের কয়েকজন শিক্ষার্থী। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত সরকার রাসা বলেন, 'গবেষণা ও উদ্ভাবনীধর্মী কাজ কম হওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টি র‍্যাংকিং এ পিছিয়ে পড়েছে। গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানোর জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করা জরুরী।'

আরও পড়ুন- ৪ লাখ ১০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ধ্বংস

বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থী রাহাতুল ইসলাম রাহাত বলেন, 'বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে তাল মিলিয়ে উচ্চশিক্ষায় অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়।

বিদেশি স্কলার, জার্নাল, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহনসহ বিভিন্ন সুযোগ থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা। আন্তর্জাতিকমানের বিশ্ববিদ্যালয় হতে হলে বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে কলাবরেশন বাড়াতে হবে।'

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুস সালাম বলেন, 'বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ঐতিহ্য শুধু সমুন্নত রাখাই নয়,

আরও পড়ুন- দলে ফেরা মোরসালিনের দুরন্ত গোলে সমতায় বাংলাদেশ

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও মর্যাদা বৃদ্ধি করতে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আরো বেশি করে মনোনিবেশ করবেন বলে প্রত্যাশা করি।এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্যকে ৪৫তম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।'

 

ইসময়/এনআই/এমআরএম