অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমাদের সমস্যার সমাধান আমাদের হাতের কাছেই থাকে। কিন্তু ব্যর্থতার ভয়, আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং উদাসীনতা আমাদের সেগুলো অর্জনে বাধা দেয়। এই মানসিক অবস্থাকে বলা হয় “অর্জিত দৈন্যতা” (learned helplessness) – যা আমাদের পরিস্থিতি মেনে নিতে, হাল ছেড়ে দিতে এবং হাত পা গুটিয়ে বসে থাকতে বাধ্য করে। তবে এরকম হতে দেয়া মোটেও উচিত নয়। নিচে সমস্যাকে সফলতায় রূপান্তর করার পাঁচটি উপায় বাতলে দেয়া হলো:
১. আপনি কোথায় আটকে আছেন তা চিহ্নিত করুন:
স্পষ্ট সতর্ক সংকেত : উদাসীনতা, হতাশা, এবং মোটিভেশনের অভাব স্পষ্টভাবে জানায় আপনি আটকে আছেন। কিন্তু অনেক সময় আমরা নিজেরাই তা বুঝে উঠতে পারি না।
সমাধান ভিত্তিক মনোচিকিৎসক ডি জনসন বলেন, “আমরা আমাদের গন্ডির বাইরে চিন্তা করি না। থেরাপিস্ট, কোচ, বন্ধু বা অন্য কেউ যতক্ষণ না বলে, ‘তুমি জানো, তুমি এটা পারো…?’ ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা বুঝতে পারি না।”
এটা অনুধাবন করা জরুরি। কারণ আপনার নিজের সম্পর্কে ধারণা বদলানোই পরিবর্তনের প্রথম ধাপ।
২. আপনার ভাষার দিকে খেয়াল রাখুন:
আমরা নিজেদের সম্পর্কে যা বলি, তাই আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারে। নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক কথাবার্তার প্রতি কড়া নজর রাখুন, যেন মনে হয় প্রতি বাক্যের জন্য আপনাকে জরিমানা দিতে হবে।
যেমন:
“আমি কোনোদিনই পারব না…”
“আমি একদম বাজে…”
“আমার দ্বারা এটা হবে না…”
এই ধরনের কথা বলা বন্ধ করুন। এই নেতিবাচকতার উৎস কোথায় থেকে খুঁজে বের করুন। নাকি সবসময় না বলার অভ্যেস আপনাকে বশ করে ফেলেছে? অথবা ছোটবেলার কোনো বুলির প্রভাব? ঐসব নিয়ে বেশিক্ষণ ভেবে সময় নষ্ট না করাই ভালো।
জনসন বলেন, “পুনরাবৃত্তি বিশ্বাস তৈরি করে।”
তাই নিজের ওপর বিশ্বাস তৈরি করতে হলে, সেই পুরনো নেতিবাচক গল্প পরিহার করুন। এটা শুধু পুরনো ভুল সফটওয়্যার — এখন সময় এসেছে আপডেট করার।
৩. আপনি কী চান তা স্থির করুন:
আপনি কি করতে সক্ষম সেটার ওপর মনযোগ দিন।
উদাহরণস্বরূপ: আপনি একা পুরো জলবায়ু সংকট থামাতে পারবেন না, কিন্তু আপনি আপনার কমিউনিটিকে আরও সচেতন ও সহনশীল করে তুলতে পারেন।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জেড উ লিখেছেন:
“২০ পাউন্ড ওজন কমানোর লক্ষ্য ঠিক না করে বরং ৫টি স্বাস্থ্যকর লাঞ্চ রেসিপি শেখার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।”
এটা কেবল বাস্তবসম্মতই নয়, বরং অর্জনযোগ্য বলেও মনে হবে।
৪. একটি নমনীয় কর্মপন্থা ঠিক করুন:
জনসন বলেন, “আপনি যেখানে যেতে চান সেখানে পৌঁছাতে হলে একটি পরিকল্পনা দরকার। কিন্তু সেটা নমনীয় হতে হবে।”
অতিরিক্ত কঠিন পরিকল্পনা করলে পরিকল্পনা অনুযায়ী কিছু না ঘটলে আপনি আবার পুরনো অসহায় অবস্থায় ফিরে যেতে পারেন।
সমস্যাটিকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করুন।
তিনি আরও বলেন, “বাস্তববাদী ও গঠনমূলকভাবে চিন্তা করুন এবং ধাপে ধাপে এগিয়ে যান। নিজের সক্ষমতার দিকে তাকান, অক্ষমতার দিকে নয়।”
৫. কাজ করুন এবং কর্মপরিবেশ বজায় রাখুন:
ইনস্টাগ্রামে একঘেয়ে স্ক্রল করে বসে থাকলে সমস্যা সমাধানের মোটিভেশন আসবে না।
জনসন ব্যাখ্যা করেন, “আপনাকে এমনভাবে কাজ করতে হবে যাতে আপনার মস্তিষ্ক ইতিবাচক ফলাফলের উপযোগী পরিস্থিতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে।”
অর্থাৎ, আপনি যা অর্জন করেছেন সেটার দিকে ফিরে তাকান, উপভোগ করুন এবং বুঝার চেষ্টা করুন এই সফলতায় আপনি কতটুকু অংশীদার হতে পেরেছেন।
তিনি বলেন:
“যদি আপনি শুধু ভাবেন, ‘আল্লাহর রহমতে পার হলাম’, তাহলে আপনি আবারও নেতিবাচক বিশ্বাসকে শক্তিশালী করছেন। বরং আপনি নিজে যা করেছেন সেটার মূল্যায়ন করুন — এটাই সমাধান ভিত্তিক থেরাপির মূল।”
এই পাঁচটি উপায় মেনে চললে, আপনি শুধু সমস্যা নিয়ে পড়ে থাকবেন না। বরং আপনি নিজেই তার সমাধান হয়ে উঠবেন।
মূল: গ্যাভিন হেইন্স,
পজিটিভ নিউজ, ৪ আগস্ট, ২০২৫।