জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছরের সাজা প্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি অব্যাহত রয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগে এই শুনানি শুরু হয়।
খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তার সঙ্গে আদালতে উপস্থিত রয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীমসহ আরও অনেকে।
অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানি করছেন অ্যাডভোকেট আসিফ হোসাইন।
এর আগে ১১ নভেম্বর আপিল বিভাগ খালেদা জিয়ার লিভ-টু-আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) মঞ্জুর করেন। সেই সঙ্গে তার ১০ বছরের সাজা স্থগিত করা হয়। আদালত খালেদা জিয়াকে আপিলের সারসংক্ষেপ দুই সপ্তাহের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। একই মামলায় তারেক রহমানসহ আরও পাঁচ আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি ছয়জনের প্রত্যেককে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
বাকি আসামিরা হলেন—সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক এমপি ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ এবং জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান। তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং মমিনুর রহমান বর্তমানে পলাতক।
বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন খালেদা জিয়া, কাজী সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ। পরে ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন।
হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধেই আপিল বিভাগে লিভ-টু-আপিল করেছিলেন খালেদা জিয়া। বর্তমানে সেই আপিলের শুনানি চলছে।