জেনেভায় জাতিসংঘের নেতৃত্বে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনায় ১৭৯টি দেশ অংশ নেয়। বৈশ্বিক প্লাস্টিক চুক্তির লক্ষ্যে এ আলোচনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছিল, তবে তা কোনো বাধ্যতামূলক চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। যদিও আলোচনাগুলো গভীর মতবিরোধে থেমে যায়—বিশেষ করে শক্তিশালী পেট্রোকেমিক্যাল স্বার্থসম্পন্ন দেশগুলোর কারণে—বিজ্ঞানী ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, এখনও আশার আলো রয়েছে।
কেন আলোচনা ব্যর্থ হলো
শিল্প খাতের প্রভাব: গ্রিনপিসের গ্রাহাম ফোর্বসের মতো কর্মীরা অভিযোগ করেন, পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনকারী দেশগুলো আলোচনা ‘হাইজ্যাক’ করেছে শুধুমাত্র নিজেদের মুনাফা রক্ষার জন্য।
রাজনৈতিক বিভাজন: বিশেষ করে যেসব দেশ প্লাস্টিক উৎপাদন থেকে লাভবান হচ্ছে, তারা দূষণের ভুক্তভোগী দেশগুলোর সঙ্গে আপস করতে রাজি হয়নি।
মূল বিরোধের বিষয়: প্লাস্টিক উৎপাদনে সীমা নির্ধারণ, ক্ষতিকর রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ, এবং অর্থায়নের দায়িত্ব কার—এসব বিষয়েই মূল দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে।
পরিবেশগত ঝুঁকি
দূষণ বৃদ্ধিঃ দেরির কারণে বিশ্ব পরিবেশ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখান থেকে ফিরে আসা সম্ভব নাও হতে পারে। মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন সাগর থেকে শুরু করে মানুষের শরীরেও পাওয়া যাচ্ছে।
স্বাস্থ্যগত প্রভাবঃ প্লাস্টিক কারখানার আশেপাশের এলাকাগুলোতে বসবাসকারী মানুষ ক্যানসার, শ্বাসকষ্ট এবং দূষিত পানির মতো স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। নিয়ন্ত্রনহীন প্লাস্টিক উৎপাদন বৈষম্য ও পরিবেশগত ক্ষতি আরও বাড়িয়ে তুলবে।
এটা কি শেষ?
এখনও না: আলোচনাগুলো কনসেনসাসের ভিত্তিতে চললেও তা বর্তমানে স্থবির। তবে দেশগুলোর একটি ক্রমবর্ধমান জোট বর্তমানে বিদ্যমান কাঠামোর বাইরে গিয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে।
নতুন পথঃ চীনসহ কিছু দেশ প্লাস্টিকের সম্পূর্ণ জীবনচক্র নিয়ন্ত্রণে সমর্থন জানাচ্ছে, জীবাশ্ম জ্বালানি ভিত্তিক ব্লকের থেকে সরে এসে নতুন পথ খুঁজছে।
একটি কার্যকর চুক্তিতে যা থাকা জরুরি
বিশেষজ্ঞরা একমত যে, একটি সফল চুক্তিতে থাকতে হবেঃ
•কেবল রিসাইক্লিং নয়, মূল কারণগুলোকেও সমাধান করতে হবে।
•প্লাস্টিক উৎপাদন কমাতে হবে, ক্ষতিকর রাসায়নিক নিষিদ্ধ করতে হবে, পণ্য পুনঃব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করতে হবে এবং ন্যায্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
•জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক বৈষম্য মোকাবেলাও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ভবিষ্যদ্বাণী
সব ব্যর্থতার পরেও, পরিবেশবাদীরা জোর দিয়ে বলছেন—এখনো দেরি হয়ে যায়নি। তবে সাহসী নেতৃত্ব এবং জীবাশ্ম জ্বালানির স্বার্থ থেকে সরে আসার রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এই সংকট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
সারকথা: জেনেভা হয়তো সেই প্রত্যাশিত ব্রেকথ্রু ছিল না—তবুও এটি শেষ নয়। সংকট স্পষ্ট, এখন দেখার বিষয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা কি সেই সংকট মোকাবেলায় যথেষ্ট হয় কিনা।
মূল: আনাতোলিয়া এজেন্সি।