সব সময় সব খানে


শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> সবুজ সরদারকে 'যুবদলের সাধারণ সম্পাদক' হিসেবে দেখতে চায় যুবসমাজ

>> সবুজ সরদারকে 'যুবদলের সাধারণ সম্পাদক' হিসেবে দেখতে চায় যুবসমাজ

>> নিলক্ষিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অফিস ফাঁকির অভিযোগ, হাজিরা খাতায় নেই স্বাক্ষর

>> এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময় বাড়লো আরও ২ দিন

>> এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময় বাড়লো আরও ২ দিন

>> ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

>> বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় জাতীয় কমিটি’ গঠন: আহবায়ক এড.ইসমাইল ও সদস্য সচিব এড.পলাশ কান্তি নাগ

>> হাতিয়ায় ফেরিঘাট থেকে ১৮০০ লিটার চোরাই ডিজেল জব্দ, গ্রেপ্তার ১

>> সিজারিয়ানে হেলথ কেয়ার হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যু, দুই সপ্তাহেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই

>> পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে ইউরিয়া সার ও ভারতীয় গরু আটক

আপনি পড়ছেন : লালমনিরহাট

তিস্তা সেচ প্রকল্পের অকার্যকরতা ও উত্তরাঞ্চলের কৃষি সংকটের গভীর ছায়া


সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট জেলা ক্রসপন্ডেন্ট

eshomoy.com || 2025-04-21
তিস্তা সেচ প্রকল্পের অকার্যকরতা ও উত্তরাঞ্চলের কৃষি সংকটের গভীর ছায়া
তিস্তা সেচ প্রকল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির প্রাণশক্তি তিস্তা নদী আজ শুকনো খালে পরিণত হয়েছে। নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় দেশের বৃহত্তম তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্প অকার্যকর হয়ে পড়েছে। প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রার ৫০% ও পূরণ হচ্ছে না, যা নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুরের ১২ উপজেলার লাখো কৃষককে চরম সংকটে ফেলেছে। বাধ্য হয়ে কৃষকদের ডিজেল বা বিদ্যুৎচালিত পাম্পে দ্বিগুণ খরচে সেচ দিতে হচ্ছে, বাড়ছে উৎপাদন খরচ।  


১৯৭৯ সালে ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তিস্তা সেচ প্রকল্প শুরু হয়, যার লক্ষ্য ছিল উত্তরাঞ্চলের ৫.৪ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া। কিন্তু উজানে ভারতের বাঁধ নির্মাণ ও পানি প্রত্যাহারের ফলে প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ে। ১৯৯৩ সালে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ১.১১ লাখ হেক্টরে নামিয়ে আনা হলেও শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানি না থাকায় তা-ও সম্ভব হয়নি। গত এক দশকে বার্ষিক সেচের লক্ষ্যমাত্রা ৪৫,০০০ হেক্টরের বেশি পূরণ হয়নি। পাউবো’র তথ্য অনুযায়ী, শীতকালে তিস্তায় পানির প্রবাহ ১০০০-১৫০০ কিউসেকে নেমে আসেক, যা সেচের জন্য প্রয়োজনীয় ৫,০০০ কিউসেকের চেয়ে নগণ্য।  


তিস্তার ভাটিতে ১১০ কিলোমিটারজুড়ে পানিশূন্যতা প্রকট। সেচ খালে পানি না পেয়ে কৃষকরা বোরো ধানের পরিবর্তে ভুট্টা চাষ করছেন, যা কম পানি সাশ্রয়ী। ডিমলার সোনাখুলি গ্রামের কৃষক সাফিন বলেন, “প্রতি বিঘায় সেচ প্রকল্পের পানি পেলে খরচ হতো ২৫০ টাকা। এখন শ্যালো মেশিনে ৪-৫ হাজার টাকা লাগে।” অনেকেই পাম্প কেনার জন্য ১০-১৫ হাজার টাকা ঋণ নিচ্ছেন। সানিয়াজান ইউনিয়নের কৃষক মাহাতাব আলীর মতো কৃষকরা অভিযোগ করেন, “ক্যানেলে পানি আসে অসময়ে, ফলে ফসল নষ্ট হয়।”  


পানি উন্নয়ন বোর্ড ১,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেচ খাল সংস্কার করছে, কিন্তু তিস্তায় পানি না থাকায় এ উদ্যোগকে “কাগজে-কলমে” বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “উজানে ভারতের বাঁধ ও পানি কপাট বন্ধ রাখায় ভাটি শুকিয়ে যায়। সংস্কার কাজ অর্থের অপচয়।” পাউবো’র রংপুর বিভাগের পাউবো’র রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান মাহবুবর রহমান স্বীকার করেন, “কৃষকরা ফেব্রুয়ারিতে বোরো রোপণ করলে নদীতে পানি থাকে না। মৌসুমভিত্তিক ফসল চাষের সমন্বয় দরকার।”  


দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য তিস্তা নদী খনন এবং ভারতের সঙ্গে সমঝোতাভিত্তিক পানি বণ্টন চুক্তি জরুরি। এছাড়া, কৃষি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ভুট্টা, পেঁয়াজের মতো কম পানি নির্ভর ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, তিস্তার মূল চ্যানেল খনন ও সারা বছর পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলেই কেবল এই প্রকল্পের লক্ষ্য পূরণ সম্ভব।  


তিস্তা সেচ প্রকল্পের সংকট কেবল পানির অভাব নয়, এটি সমন্বয়হীন নীতির ফল। উজানের দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা ত্বরান্বিত করা, বিকল্প ফসল চাষে প্রণোদনা এবং প্রকল্পের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি বিপর্যয় অবধারিত।