হিলি বন্দরে ধস আমদানি-রপ্তানিতে, ক্ষতির মুখে ব্যবসা ও শ্রমিকরা
জুবায়ের হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর:
eshomoy.com || 2025-07-29
ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক |ইসময়|
দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানির গতি অনেকটাই কমে এসেছে। একসময় প্রতিদিন যেখানে কয়েক শতাধিক ট্রাক পণ্য নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করত, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র দুই-তিন ডজন ট্রাকে। বিশেষ করে রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি থেমে গেছে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একসময় এই বন্দর ছিল নানা রকম পণ্যের আদান-প্রদানে সরগরম। ফলমূল থেকে শুরু করে যানবাহনের যন্ত্রাংশ পর্যন্ত যেত আসত। এখন আমদানি সীমিত হয়ে এসেছে মূলত মসলা ও পশুখাদ্য জাতীয় কিছু পণ্যে।
বন্দরের ব্যবসায়ী ওয়াহেদুল রহমান রিপন জানান, পণ্যের শুল্ক খালাসে সময়ক্ষেপণ এবং শেড সংকটে পড়ে বহু পণ্য ট্রাকেই আটকে থাকতে হয়, যা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে অনেকেই বিকল্প বন্দর ব্যবহার করতে শুরু করেছেন।
শ্রমিকরাও পড়েছেন বিপাকে। এক সময় প্রতিদিন কাজের সুযোগ থাকলেও এখন সপ্তাহ পার করেও কাজ জোটে না অনেকের। শ্রমিক কাওসার মিয়া বলেন, “আগে প্রতিদিন দিনমজুরি করতাম, এখন আয় বলতে গেলে নেই বললেই চলে।”
এদিকে বন্দর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বেসরকারি অপারেটরের অব্যবস্থাপনাকেই এই স্থবিরতার বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, অব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক অনাগ্রহের কারণেই হিলির সম্ভাবনাময় বাণিজ্য কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে।
রাজস্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২৫–৩০টি ট্রাক পণ্য আসছে হিলিতে, যা আগের তুলনায় খুবই নগণ্য। পেঁয়াজ ও চাল আমদানির অনুমতি না থাকায় এই দুটি প্রধান পণ্যের আমদানি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।এ অবস্থায় বন্দর সচল রাখতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ কামনা করছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।
জেএইচ/ইডি