আজ বৃহস্পতিবার (১২জুন) লক্ষ্মীপুর ডিবেট এসোসিয়েশন কর্তৃক আয়োজিত "নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা" শীর্ষক সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত হয়ে নারী শিক্ষার দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।
তিনি বলেন ,শিক্ষিত মা সন্তানকে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা এবং আদর্শে গড়ে তুলতে পারেন। এক শিক্ষিত মা পুরো একটি প্রজন্মকে আলোর পথে পরিচালিত করতে সক্ষম।
এছাড়া নারীরা যদি শিক্ষিত হন, তাহলে তারা কর্মজীবনে যুক্ত হয়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে পারেন। এতে পরিবার যেমন স্বচ্ছল হয়, তেমনি দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হয়।
কামরুল আরো বলেন,শিক্ষিত নারী নিজের ও পরিবারের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হন। শিশুর পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য ইত্যাদি সম্পর্কে তারা জানেন এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
তিনি বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সমাজে নারীরা এক ভয়ানক ধর্ষণ ও ইভটিজিংয়ের শিকার।এই সমস্যা প্রতিরোধের জন্য নারীদের শিক্ষার বিকল্প নাই।শিক্ষিত নারী নিজের অধিকারের ব্যাপারে সচেতন থাকেন এবং বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেন।
শিক্ষিত নারীরা প্রশাসন, রাজনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিক্ষা — সব ক্ষেত্রেই নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। বাংলাদেশের অনেক নারী এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
কামরুল নারী শিক্ষার বিরোধী অন্ধকার জগতের বাসিন্দাদের উদ্দেশ্য বলেন,নারী শিক্ষা এখন আর বিলাসিতা নয়, এটি একান্ত প্রয়োজন। নারী-পুরুষ উভয়ের সমান অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো জাতি এগোতে পারে না। তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে এই শপথ নিই — "প্রত্যেক শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করবো, নারী শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবো।"
শিক্ষিত নারী, উন্নত দেশ — এই হোক আমাদের আগামী দিনের শ্লোগান। সেমিনারে উপস্থিত ছিল লক্ষ্মীপুর ডিবেট এসোসিয়েশনের বর্তমান সভাপতি, সেক্রেটারি ও সাবেক কৃতি বির্তাকিকরা ও নারী অধিকার আন্দোলনের লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর জেলার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।