আওয়ামিলীগ এখন অনলাইনলীগে পরিণত হয়েছে / সরকারের একটা অংশ আওয়ামিলীগকে পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছে / চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে বিএনপিকে ব্যবস্থা নিতে হবে- আবু হানিফ
ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশ গঠনে ছাত্র সমাজের করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলা গণঅধিকার পরিষদ ও অঙ্গসংগঠন। আজ শনিবার বিকাল ৪ টায় হাতিয়া উপজেলায় এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।আলোচনা সভার শুরুতে জুলাই বিপ্লবে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
আলোচনা সভায় গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেন,"হাতিয়ার একজন দাবন ছিলো আওয়ামিলীগের এমপি মুহাম্মদ আলী,তার সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি ছিলো হাতিয়ার মানুষ, আজকে সেই সন্ত্রাসীরা এই এলাকায় নাই জণগণ শান্তিতে বসবাস করছে। হাতিয়ার মানুষ কে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, আর কোন দানবের জন্ম যেন হাতিয়ায় না হয়। আজকে আপনারা দেখেছেন ১৫ বছর মানুষের উপর জুলুমকারী আওয়ামিলীগ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।বর্তমানে তাদের কোন অস্তিত্ব নেই, তারা এখন অনলাইনলীগে পরিণত হয়েছে। তারা অনলাইনে গুজব ছড়াচ্ছে, মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য। আপনাদেরকে সজাগ থাকতে হবে আওয়ামিলীগের গুজবে কান দেওয়া যাবে না।এই সরকারের একটা অংশ আওয়ামিলীগ কে পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছে, তারা আওয়ামিলীগের নেতাদের জামিনে মুক্তি দিচ্ছে। জুলাই হত্যাকান্ডে জড়িত আওয়ামিলীগের অনেক নেতাদের এমনকি শেখ হাসিনার আত্মীয় স্বজন কাউকেই আটক করছে না।
তিনি আরও বলেন,আমরা দেখেছি এক চাঁদাবাজের পতন হলেও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি কেবল হাত বদল হয়েছে। গণমাধ্যমে আসছে বিএনপির লোকজন বিভিন্ন জায়গায় দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি করছে,এসব দখলদার ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে বিএনপি কে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিএনপি, জামায়াত গত ১৫ বছরে অনেক নির্যাতিত হয়েছে, নিপীড়িত হয়েছে, সুতরাং এমন কোন কাজ করা যাবে যাতে বিএনপি জামায়াতের মানুষের মনে ঘৃণা জন্ম হয়। আওয়ামিলীগের দোসর জাতীয় পার্টিকে এই সরকার কোন কাজে যুক্ত করলে এই জুলাই বিপ্লবে নিহত শহীদদের সাথে বেঈমানী করা হবে।এই দালালদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
দলের উচ্চতর পরিষদ সদস্য আব্দুজ জাহের বলেন, "অপারেশন ক্লিন লীগের মাধ্যমে সারাদেশের আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। শত শত নিরপরাধ ছাত্র জনতা হত্যা করার পরও এখন পর্যন্ত সারাদেশে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নির্বিগ্নে ঘুরাফেরা করছে, প্রশাসন তাদেরকে গ্রেপ্তার না করে থানায় বসে বসে কি করছে? আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না করার পিছনে কোন উপদেষ্টার হাত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা উচিত। উপদেষ্টাদের উদ্দেশ্যে আব্দুজ জাহের আরো বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারনে মানুষজন দিশেহারা হয়ে পড়ছে, দেশ সংস্কার করার আগে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করুন। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে জনরোষও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। আপনার মেরুদণ্ড আরেকটু শক্ত করুন। এত কোমল মেরুদণ্ড দিয়ে এদেশের সংস্কার তো দূরের কথা, ফ্যাসিবাদের উচ্ছেদও সম্ভব না।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতা তামজিদের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদ নোয়াখালী জেলার সদস্য সচিব মামুন যুগ্ম আহবায়ক আযহার উদ্দিন, ছাত্র অধিকার পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব উদ্দিন, সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক সাহারাজ,হাতিয়া উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নেয়ামত উল্লাহ নিরব, সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সোহাগ, নোয়াখালী জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ উদ্দিন প্রমুখ।