নামিদামি প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক পণ্য অনুমোদনহীন কারখানায় তৈরি হচ্ছে। সারা দেশে তা নামমাত্র দামে কয়েক হাত হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। ব্যবহারকারীদের নিম্নমানের এসব পণ্যে ঝুঁকি বাড়ছে। বিদ্যুৎস্পর্শ হয়ে মৃত্যুর পাশাপাশি ঘটছে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড।
গোয়েন্দা পুলিশ অসাধু সিন্ডিকেটের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকার নকল বৈদ্যুতিক পণ্য।
কোথাও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কারণ হিসেবে বলা হয় সূত্রপাত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে। অনেক সময় তদন্তে তার সত্যতাও মেলে। ফায়ার সার্ভিসের হিসাবেও বিদ্যুৎ সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডগুলোর ৭৫ থেকে ৮০ ভাগের পেছনে দায়ী। যার মূল কারণ নকল ও নিম্নমানের বৈদ্যুতিক পণ্য।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ উদ্ধার করেছে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের একটি মেশিন যা দিয়ে প্রতিদিন ১০ লাখ টাকার নকল বৈদ্যুতিক পণ্য তৈরি করা হতো। উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকার নকল বৈদ্যুতিক সুইচ সকেট ও বাটন হোল্ডার। কারখানাটিতে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি সুপারস্টারের নকল পণ্য তৈরি করা হতো। গ্রেফতার করা হয়েছে মালিক ও কারিগরকে।
নিম্নমানের এ নকল পণ্যে বাজার সয়লাব। এতে একদিকে ক্রেতা হারাচ্ছে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি। রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। আর ঝুঁকিতে ব্যবহারকারীরা।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা বৈদ্যুতিক জিনিসপত্র তৈরি করে আসছিল। তারা নিম্নমানের জিনিস ব্যবহার করছে অথচ সেখানে লেখা হচ্ছে উচ্চমানের নাম এবং ভালো কোম্পানির লোগো ব্যবহার করা হচ্ছে। সবাই জানে বেশির ভাগ অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় বিদ্যুৎ শর্ট সার্কিটকে। মূলত বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের মূল হচ্ছে এসব নিম্ন মানের বৈদ্যুতিক জিনিসপত্র।