আর মাত্র কিছুক্ষন। বহুল আলোচিত সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। ২০২০ সালের ৩১ জুলাই টেকনাফের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা।
ঘটনার প্রায় ১৮ মাস পর আজ ৩১ জানুয়ারি (সোমবার) রায়ের দিন ধার্য করেন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাঈল। যদিও মাত্র ২৯ কর্মদিবসে আদালত আলোচিত এ মামলাটির বিচারকার্য সম্পন্ন করেছে। এতে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার দাবি জানিয়েছে সিনহার পরিবার।
রায় নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ বলছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে। আর আসামিপক্ষের আইনজীবী বলছেন, ঘটনাটি প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্র ও বাদীপক্ষ। যদি আশানুরূপ ফলাফল না আসে তাহলে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানান তারা।
সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস আসামিদের ফাঁসির প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমার ভাইকে যারা গুলি করে হত্যা করেছে, তাদের সবাইকে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হোক। আমার মতো আর কোনও বোনের বুক যেন খালি না হয়। অপরাধ করে কেউ যেন পার না পায়।’
তিনি বলেন, ‘মামলার আসামি ওসি প্রদীপ ও লিয়াকত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত। আমরা প্রত্যাশা করছি, এই দু’জনের সর্বোচ্চ সাজা হবে। বাকি আসামিদের যেন অপরাধ অনুযায়ী সাজা দেওয়া হয়। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, এটাই যেন রায়ে প্রমাণ হয়।’
এই রায়ের মাধ্যমে দেশে ক্রসফায়ার বন্ধ হবে জানিয়ে শারমিন শাহরিয়া বলেন, ‘আমি মনে করি, এই রায়ের মাধ্যমে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে। অপরাধীরা সতর্ক হবে। মানুষ সুবিচার পাওয়ার আশা রাখবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে।’
এদিকে সিনহার পরিবারের পাশাপাশি মামলার রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ফরিদুল আলম বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে মেজর সিনহাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। সেটা আদালতের সামনে স্পষ্টভাবে, সন্দেহাতীতভাবে আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি। সিনহা হত্যা মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ১৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। রায়ে সব আসামির সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছি।
ইতোমধ্যে আদালত চত্বরে এসেছেন আসামিদের স্বজনরা। সিনহার পরিবারের সদস্যরাও আদালতে উপস্থিত থাকবেন। অন্যদিকে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ‘টেকনাফের সর্বস্তরের জনসাধারণ’ এর ব্যানারে ওসি প্রদীপের ফাঁসির দাবিতে আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।