নির্বাচনের দায়িত্বে অবহেলার জন্য নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জেল-জরিমানার পরিমাণ বাড়াতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, দায়িত্বে অবহেলাকারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করলে তাদের বিরুদ্ধেও শান্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫, নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং অর্থ-সংক্রান্ত কতিপয় আইন (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫-এর নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) সংশোধন অধ্যাদেশের খসড়া গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচন কর্মকর্তার সংজ্ঞা পরিবর্তন করে কারা কারা এ দায়িত্বে থাকবেন, তা স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, কোনো নির্বাচন কর্মকর্তা নির্বাচন-সংক্রান্ত বিষয়ে কমিশন বা ক্ষেত্রমতো রিটার্নিং কর্মকর্তার কোনো আদেশ বা নির্দেশ পালন না করলে বা অস্বীকৃতি জানালে বা নির্বাচন-সংক্রান্ত কোনো আইনের বিধান ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করলে বা এর অধীন কোনো অপরাধ করলে তিনি অসদাচরণ করেছেন বলে গণ্য হবে। এ জন্য কমিশন, কমিশনের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা কমিশনের সম্মতিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা চাকরিবিধি অনুযায়ী দুই মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দিতে পারবেন।
বর্তমান আইনে বলা আছে, কোনো নির্বাচন কর্মকর্তা অসদাচরণ করলে তাঁর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণ, বরখাস্ত, বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি, পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি অনধিক দুই বছরের জন্য স্থগিত করতে পারবেন।
নির্বাচনী দায়িত্বে পালনে অসদাচরণের জন্য কোনো নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমিশন, কমিশনের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা কমিশনের সম্মতিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা বা কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তাব পাঠাবেন। এ প্রস্তাব পাওয়ার এক মাসের মধ্যে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে কমিশনকে অবহিত করতে হবে। এই আদেশ পালন বা কার্যকর না করলে সংশ্লিষ্টদের সর্বনিম্ন ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছর জেল, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। এত দিন এই অপরাধের জন্য ৬ মাস কারাদণ্ড, ২ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হতো।
আইনে নতুন ধারা যুক্ত করে বলা হয়েছে, কমিশনের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথি, চাকরি বই এবং বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদনে লিপিবদ্ধ ও ডসিআরে অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং এ বিষয়ে কমিশনকে অবহিত করতে হবে। সরকার ও কমিশনের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ দেখা দিলে কমিশনের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিতে হবে। কমিশনের কাছে যদি প্রতীয়মান হয়, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তব্যে অবহেলা করেছেন