বহির্গমন ছাড়পত্র জটিলতায় আবারও সংকুচিত হয়ে যেতে পারে সৌদি আরবের শ্রমবাজার। এমন শঙ্কা জানিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকরা বলছেন, বিএমইটির নতুন নিয়মের জটিলতায় ভিসা থাকার পরও গেল তিন মাসে বাজারটিতে যেতে পারেনি প্রায় ১ লাখ শ্রমিক। রাজনৈতিক সরকার ছাড়া সমাধানের কোনো পথ দেখছেন না অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। তবে, এ ব্যাপারে বিএমইটির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিলেটের বাসিন্দা মামুন মিয়া। বিএমইটিতে দাঁড়িয়ে জানালেন শ্রমিক হিসেবে সৌদি যেতে কতোটা বাধার মুখে পড়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, তিন মাস ভিসা মেয়াদের মধ্যে এরইমধ্যে দুমাস পার হয়ে গেছে। বাকি যেটুকু সময় আছে, সে সময়ের ভেতর বিএমইটি থেকে ছাড়পত্র পাবো কি-না তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।
মামুন আরও বলেন, এ সময়ের মধ্যে না যেতে পারলে আমার আর কোনো উপায় থাকবে না। কিস্তির লোকজন এরইমধ্যে আমার বাড়িতে আসা শুরু করেছে।
শুধু মামুন নয় এমন ভুক্তোভোগী অনেকে। যাদের কেউ ভিটেমাটি বন্ধক রেখে বা ঋণ নিয়ে প্রবাসে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। অথচ শেষ সময়ে এসে মিলছে না বহির্গমন ছাড়পত্র।
জানা গেছে, আগে কোনো একটি কোম্পানিতে কাজ করতে যেতে চাইলে ২৪ জন শ্রমিককে একক ভিসার আওতায় বিবেচনা করা হতো। এক্ষেত্রে বহির্গমন ছাড়পত্র পেতে তেমন কোনো জটিলতা ছিল না; এরবেশি হলে গ্রুপ ভিসায় তাদের ছাড়পত্র দিতো বিএমইটি। কিন্তু গেল ৩০ জুলাইয়ের পর থেকে সর্বোচ্চ ৫ জনকে বিবেচনা করা হচ্ছে একক ভিসায়। শুধু তাই নয়, সৌদি চেম্বারের সত্যায়ন ছাড়া দেয়া হচ্ছে না কোনো ছাড়পত্র। আর আগামী মাস থেকে সত্যায়ন নিতে হবে সৌদি দূতাবাস থেকে।
মেসার্স আনিছা এয়ার ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান মো. রাব্বি চৌধুরী বলেন, ৫ এর অধিক হলে চেম্বার অব কমার্স ও সৌদি দূতাবাস থেকে অ্যাটাচ করে আনতে বলা হচ্ছে।
আর্থ স্মার্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, একটা ভিসার মেয়াদ ৩ মাস। প্রত্যেকটা এজেন্সিতে পাসপোর্ট আছে, যে ভিসাগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু বহির্গমন ছাড়পত্রের জন্য আমরা ফ্লাইট করতে পারছি না।
বিএমইটির তথ্য বলছে, গেল বছর সৌদি গেছেন ৬ লাখ ২৮ হাজার ৫৬৪ জন শ্রমিক। সেখানে এ বছর নভেম্বর শেষ হওয়ার আগেই এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৮৯৫ জনে।
রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের দাবি, জটিলতায় ভিসা থাকার পরও গেল তিন মাসে এই বাজারটিতেই যেতে পারেনি প্রায় ১ লাখ শ্রমিক।
শ্রমবাজার রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব বলেন, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ১ থেকে ৫ এর দায়িত্ব তো আমি নিচ্ছি, তাহলে ৬ থেকে ২৪ এর দায়িত্বও আমি নিচ্ছি। এ ৬ থেকে ২৪ এর জন্য নিয়মটা হাস্যকর। অথচ এর