পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- বাংলাদেশের র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আনা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তিনিও অবাক হন।
বাংলদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কখনোই মানবাধিকার লঙ্ঘন করে না, রাজধানীতে আলাদা এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান। আত্মরক্ষার জন্য কখনো কখনো গুলি ছুড়তে হয় (দুর্বৃত্তদের হামলা থেকে)। প্রতিটি ঘটনাই তদন্ত হয় তারপরও।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারকে তলব করে,মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ব্যাখ্যা নিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন ১১ ডিসেম্বর (শনিবার) দুপুরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত বিসিএস (পররাষ্ট্রবিষয়ক) অ্যাসোসিয়েশনের (এওএফএ) এক অনুষ্ঠানে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দুঃখজনক- বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জঙ্গি ও সন্ত্রাসমুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ-র্যাবের কারণে।
নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে তিন দেশের ১৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাষায়। ছয় কর্মকর্তার নামও রয়েছে এ তালিকায় বাংলাদেশের এলিট ফোর্স র্যাবে বিভিন্ন পদে কর্মরত। গণতন্ত্রের প্রতি মার্কিন সরকারের সর্বাত্মক নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের জারি করা রিপোর্টে দাবি করা হয়।
অনেক সময় মাদক কারবারিরা নিজেদের রক্ষা করার জন্য আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। আত্মরক্ষার জন্য প্রশিক্ষিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাল্টা গুলি চালালে কখনো কখনো হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে প্রতিটি ঘটনাই ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে তদন্ত করা হয়।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ দাবি নাকচ করে একথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞায় হতাশ হওয়ার কিছু নেই- বলছেন অপরাধ ও সমাজ বিশ্লেষকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ তৌহিদুল হক বলেন তাদের রাজনীতির অংশ এটি। বিভিন্ন দেশ দখল করে হত্যা, লুট, নির্যাতনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই প্রতিনিয়ত যে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে তা নজিরবিহীন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, অনেক ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী মানবাধিকার ও গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করে।