হিলিতে ছড়িয়ে পড়ছে ‘পার্থেনিয়াম’ গাছের মরণফাঁদ! নিঃশব্দে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
জুবায়ের হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর:
eshomoy.com || 2025-07-29
পার্থেনিয়াম হিস্টেরোফোরাস |ইসময়|
দিনাজপুরের হিলি রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করছে এক ধরনের আগাছা গাছ, যার নাম পার্থেনিয়াম হিস্টেরোফোরাস (Parthenium hysterophorus)। স্থানীয়ভাবে একে ‘বিদেশি আগাছা’ বা ‘সাদা ফুলের আগাছা’ নামেও ডাকা হয়। দেখতে নিরীহ মনে হলেও এই গাছটির রয়েছে ভয়াবহ ক্ষতিকর দিক—যা কৃষি, জনস্বাস্থ্য, প্রাণিকল্যাণ ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
❖ কোথা থেকে এল এই গাছ?
মূলত দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আগত এই আগাছাটি অনিচ্ছাকৃতভাবে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। রেললাইন, সড়কের পাশে, পতিত জমি, বসতভিটা এমনকি চাষযোগ্য জমিতেও এটি এখন অনায়াসে জন্ম নিচ্ছে। হিলি রেলস্টেশন এলাকায় এই গাছটির অত্যধিক বিস্তার স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
❖ পার্থেনিয়ামের ক্ষতিকর দিকগুলো:
১. মানবদেহে চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি
পার্থেনিয়াম গাছের পরাগরেণু বাতাসে ভেসে বেড়ায়, যা মানুষের ত্বকে বসলে চুলকানি, ফুসকুড়ি, একজিমা, সোরিয়াসিসের মতো চর্মরোগ সৃষ্টি করতে পারে। যারা আগে থেকেই অ্যালার্জির রোগী, তাদের জন্য এটি আরো বিপজ্জনক—হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট বা এলার্জিক রাইনাইটিস দেখা দিতে পারে।
২. কৃষিজমিতে উৎপাদন কমায়
এই আগাছা একবার কোনো জমিতে জন্মালে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের সব উদ্ভিদকে দমন করে। এটি মাটির পুষ্টি শোষণ করে নেয় এবং চাষযোগ্য গাছের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে জমির উর্বরতা কমে যায় এবং ফসল উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ে।
৩. প্রাণিখাদ্য হিসেবে বিপজ্জনক
অনেক সময় গবাদিপশু ঘাস খাওয়ার সময় এই গাছও খেয়ে ফেলে। কিন্তু পার্থেনিয়াম গবাদিপশুর জন্য বিষাক্ত—তাদের মধ্যে পেটের সমস্যা, দুধে তিক্ত স্বাদ এবং বিষাক্ত উপাদান উৎপন্ন হয়, যা মানুষের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।
৪. জলবায়ু ও পরিবেশে বিরূপ প্রভাব
পার্থেনিয়াম এমন এক ধরনের আগাছা, যা স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্রকে (ecosystem) ধ্বংস করে। এটি দেশের স্থানীয় উদ্ভিদ ও গাছের বংশবৃদ্ধিতে বাধা দেয়। পাখি ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব পড়ে।
৫. মানবজীবনে মানসিক চাপ
বেশ কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে, পার্থেনিয়ামের সংস্পর্শে নিয়মিত আসলে মানুষের মধ্যে মাথাব্যথা, ক্লান্তি, মনোসংযোগের ঘাটতি এমনকি মানসিক অস্বস্তি বাড়ে। এটি মানুষের কর্মক্ষমতাও কমিয়ে দিতে পারে।
জেএইচ/ইডি