সব সময় সব খানে


রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> কালাইয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্ভোধন

>> মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ, আখক্ষেতে মিলল রক্তাক্ত মরদেহ

>> সবুজ সরদারকে 'যুবদলের সাধারণ সম্পাদক' হিসেবে দেখতে চায় যুবসমাজ

>> সবুজ সরদারকে 'যুবদলের সাধারণ সম্পাদক' হিসেবে দেখতে চায় যুবসমাজ

>> নিলক্ষিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অফিস ফাঁকির অভিযোগ, হাজিরা খাতায় নেই স্বাক্ষর

>> এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময় বাড়লো আরও ২ দিন

>> এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময় বাড়লো আরও ২ দিন

>> ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

>> বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় জাতীয় কমিটি’ গঠন: আহবায়ক এড.ইসমাইল ও সদস্য সচিব এড.পলাশ কান্তি নাগ

>> হাতিয়ায় ফেরিঘাট থেকে ১৮০০ লিটার চোরাই ডিজেল জব্দ, গ্রেপ্তার ১

আপনি পড়ছেন : সম্পাদকীয়

ঈদের খুশির আড়ালে নিম্নবিত্তের দীর্ঘশ্বাস


মেহেদী হাসান আহাদ

eshomoy.com || 2025-03-24 15:26
ঈদের খুশির আড়ালে নিম্নবিত্তের দীর্ঘশ্বাস
সংগ্রহীত



ঈদ আসার সাথে সাথে শহর-গ্রামে এক নতুন উৎসবের আবহ বিরাজ করতে থাকে। রাস্তায় রঙিন লাইট, বাজারে ভিড়, দোকানগুলো সাজানো হয়ে ওঠে এক আভিজাত্যের প্রাচীর। ঈদ মানে নতুন কাপড়, মিষ্টির প্যাকেট, আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ। এটি যেন সকলের জন্য এক মহাপরিক্রমা, যেখানে খুশি আর আনন্দের ছড়াছড়ি। কিন্তু এই হই-হুল্লোড়ের মধ্যে কিছু বাস্তবতা চাপা পড়ে যায়, যেগুলো সাধারণত কেউ দেখতে চায় না, আলোচনা করতে চায় না। 


ঈদ যেভাবে ধনীদের জন্য এক আনন্দদায়ক মুহূর্ত, নিম্নবিত্তদের জন্য তা এক কঠিন বাস্তবতায় পরিণত হয়। ঈদের আগের দিনগুলোর প্রস্তুতি নিয়ে তাদের চিন্তা শুরু হয়। বাজারে কেনাকাটার জন্য সময় ও টাকার অতি প্রয়োজনীয়তা তাদের মাঝে এক ভয়াবহ মানসিক চাপ তৈরি করে। নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষের কাছে ঈদ আসলে মানসিক যন্ত্রণার মঞ্চ হয়ে ওঠে। শহরের দোকানগুলো যখন সাজানো হয় নতুন জামা-কাপড়, গয়না, মিষ্টির প্যাকেট দিয়ে, তখন তাদের মনে প্রশ্ন ওঠে—কীভাবে তারা এই সব কিছু কিনবে? সংসারের অন্যান্য খরচ, মাচারের ভাড়া, পড়াশোনার খরচ, ঋণের টানাপোড়েন—এসব তাদের ঈদের প্রস্তুতিতে এত বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায় যে, ঈদের উৎসব শুদ্ধভাবে তাদের কাছে কখনোই পৌঁছায় না।


এমন একটি পরিস্থিতি, যেখানে পরিবারগুলো বেঁচে থাকার জন্য কঠোর সংগ্রামে লিপ্ত থাকে, সেখানে ঈদের আনন্দ বয়ে আনা যেন অদৃশ্য কোনো প্রাপ্তি, যা তারা সবসময় চেয়ে থাকে, কিন্তু কখনো হাতের নাগালে আসে না। ঈদের কেনাকাটার জন্য যখন তাদের হাতে কিছু টাকার ব্যবস্থা হয়, তখন সেটা অল্প দামে পুরনো পোশাকের দিকে চলে যায়। দামি জামা-কাপড়, মিষ্টি আর গয়না—এগুলি হয়ে ওঠে কেবল এক দূরের চাওয়া। ঈদের সকালে যখন শহরের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ নতুন জামা পরিধান করে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানায়, তখন নিম্নবিত্ত পরিবারের ঘরে পুরনো জামায় একে অপরের দিকে তাকানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।


এটা শুধুমাত্র কাপড় বা খাবারের ব্যাপার নয়, এটি মানুষের অনুভূতিরও ব্যাপার। যখন কোনো শিশু তার বাবা-মাকে নতুন জামা কিনে দেওয়ার আশা করে, তখন বাবা-মা হালকাভাবে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বলেন, “এবার ঈদটা খুব ভালো হবে, আমরা সবাই একসাথে আনন্দ করতে পারবো।” কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা হলো, সেই পরিবারগুলো তখনো জানে না কীভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয়তা পূরণ হবে। ঈদের দিন সেই পরিবারটির শিশুরা যখন অন্যদের দেখে নতুন জামায় সাজানো, তখন তাদের জন্য ঈদ শুধুই এক সস্তা আনন্দের মুহূর্তে পরিণত হয়। তাদের চোখে, মনে এক নিঃশব্দ কান্না।


ঈদের দিনটি তখন হয়ে ওঠে এক ধ্রুবক প্রহেলিকা—একদিকে মানুষ আনন্দে মেতে ওঠে, আর অন্যদিকে নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো তাদের নিরন্নতা, তাদের ক্ষুধার অনুভূতিগুলোকে চেপে ধরে ঈদের খুশির প্রলেপ দিতে চায়। এই অসাম্যতা, এই বৈষম্য সেই সমাজে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে, যেখানে ‘ঈদ’ শুধুই একটি আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান নয়, বরং এক বিশেষ শ্রেণীর জন্য এক আত্মতৃপ্তির বিষয়।


এখানে কথাগুলো যখন দানে পরিণত হয়, তখন সত্যিকার অর্থে এই দান কখনোই তাদের দুঃখের পরিমাণ কমাতে পারে না। প্রতিটি খাবারের প্যাকেট, প্রতিটি পুরনো জামার তোয়াজ, কিছু সময়ের জন্য তাদের মুখে হাসি আনলেও তা স্থায়ী সুখ নয়। ঈদের প্রকৃত আনন্দ তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন এই বৈষম্য দূর হবে, যখন ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে ঈদের আনন্দ এক সমান অনুভূতি হয়ে উঠবে।  


ঈদ শুধুই কাপড়-চোপড়ের জন্য নয়, এটি মানুষের মনে ভালোবাসা, একাত্মতা, সহযোগিতার প্রেরণার এক বিশেষ সময়। যদি এই অনুভূতি শুধু ধনী শ্রেণী বা বিশেষ কিছু মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা কখনোই সবার ঈদ হতে পারে না। সঠিকভাবে ঈদ তখনই সত্যিকার আনন্দে পরিণত হবে, যখন এই উৎসব কেবল ‘অধিকার’ নয়, বরং ‘শ্রদ্ধা’ হিসেবে সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছাবে।