রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে যেন দুর্নীতির পালাবদল না ঘটে, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার।
তিনি বলেছেন, ‘ক্ষমতার সঙ্গে যেন কোনো ‘জাদুর কাঠি’ যুক্ত না থাকে, যা রাজনীতিবিদদের রাতারাতি আকাশছোঁয়া সম্পদের মালিক বানিয়ে দেয়।’
শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (এফডিসি) ৮ নম্বর অডিটরিয়ামে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
ড.
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “আমরা বিশ্বাস করতে চাই বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম হবে। তাদের হাতে এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি আছে, যা তারা আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই শেষ করবে বলে আশা করি। জাতির স্বার্থে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে পারলেই সেটিই হবে তাদের সাফল্য
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন আসবে, তবে সেটি যেন দুর্নীতির পালাবদলে পরিণত না হয়। আমাদের দেশে দেখা গেছে, ক্ষমতায় আসার পর অনেক রাজনীতিবিদের সম্পদ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সম্পদ আকাশচুম্বি হারে বেড়েছে। আমরা চাই, ক্ষমতা জনগণের সেবার হাতিয়ার হোক, ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির মাধ্যম নয় ‘
গণভোট প্রসঙ্গে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি সরকারের হাতে থাকা উচিত। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় প্রয়োজন, কারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি সময়সাপেক্ষ।’
সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘জুলাই সনদ এখন ঐকমত্যের সিলভার লাইন থেকে গোল্ডেন লাইনে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক রেষারেষির কারণে যদি এই সনদ বাস্তবায়নে বাধা আসে, তাহলে গণতন্ত্র ভয়াবহ সংকটে পড়বে। আমরা আর কখনো রাজপথে রক্ত দিতে চাই না; কোনো স্বৈরাচার যেন বাংলাদেশে ফিরে না আসে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ছোটখাটো মতভেদ দূর করে এখনই সময় জাতিকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশায় রাখার। আমরা আশা করি, বিভেদের রাজনীতি পরিহার করে আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে ফ্যাসিস্টবিরোধী সব রাজনৈতিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ থাকবে।