বিরাজনীতিকরণের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। দেশের রাজনীতির ক্রান্তিলগ্নে ও দুঃসময়ে বিএনপির হাল ধরেছিলেন তিনি।
দেশকে রাজনীতিশূন্য ও বিএনপিকে নির্মূলের চক্রান্ত করা হয়েছিল ওয়ান ইলেভনের সময়ে, তখন কান্ডারি হয়ে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। এসব কথা জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিএনপির আন্দোলন চলছে। বুধবার (১৬ মার্চ) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, দল তার ওপর আস্থা রেখেছিল বলেই বিএনপি আজও সুসংগঠিত। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন দলের ক্রান্তিলগ্নে যদি হাল না ধরতেন তাহলে আজ বিএনপি টিকে থাকত কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
বর্তমান সরকারের মন্ত্রী-এপিদের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের ওপর কোনো দায়িত্ববোধ নেই তাদের, জবাবদিহি নেই বলেই তাদের বক্তব্যেও প্রমাণ হয়। জনগণের সঙ্গে রসিকতা করছে সরকার, মশকরা করছে ক্ষমতাসীনরা।
এ সময় নির্বাচন কমিশন-ইসি গঠন করে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় রেখে যেই কমিশনই থাক না কেন, সুষ্ঠ নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।
নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার গঠন করে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন করে জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠন করাই এখন বিএনপির একমাত্র দাবি এ কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দাবি আদায়ে বর্তমান সরকারকে হটিয়ে জনগণের সরকার গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, এক এগারোর চাইতেও কঠিন সময় পার করছে দেশ। বেগম জিয়াকে মিথ্যা মামলায় আটক রেখে সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করছে সরকার।
এ সময় তিনি আরও বলেন, বিএনপির লাখো নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, হাজারের ওপরে বিএনপি নেতাকর্মী গুম হয়েছে। বিএনপিকে নির্মূল করত চায় সরকার। অতীতেও চক্রান্ত করা হয়েছে কিন্তু তা পারেনি। নতুন করে জেগে উঠেছে বিএনপি।
বর্তমাস সরকার সকল সম্ভাবনা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে, দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। এর কারণ, সরকার নিজে দাম বাড়াচ্ছে, ব্যবসায়ীরা সবাই সরকারি দলের লোক, যারা দুর্নীতির মাধ্যমে দাম বাড়াচ্ছে। দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে ক্ষমতাসীনরা বলেন মির্জা ফখরুল।