বিএনপি এখনই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য নির্বাচন আয়োজনের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে চাচ্ছে না। দলটি সরকারকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে সরকারের উচিত রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা।
গত সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, যেখানে দলের এই মনোভাব উঠে আসে।
এটাই প্রথমবারের মতো যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন ও তাদের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের শুরুতেই নবনির্বাচিত দুই সদস্য, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ এবং এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে অভিনন্দন জানানো হয়।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রয়োজন এবং এ জন্য যৌক্তিক সময় পর্যন্ত সরকারকে সহযোগিতা করবে বিএনপি।
স্থায়ী কমিটির নেতারা বলছেন, বিএনপি যে ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিল, সেই মোতাবেক অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার কার্যক্রম চালাচ্ছে। সরকারকে এই সংস্কার কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করতে হবে।
একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় জানান, সরকারকে সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে, এবং এখন কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করা হবে না।
বৈঠকের সূত্র জানায়, আগে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার দাবি করা হলেও, বিএনপি এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সরকারকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হবে, তবে সেই সময়সীমা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
পরিস্থিতি অনুযায়ী এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। আপাতত, বিএনপি সরকারের কাছে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানাবে এবং তাদের বক্তব্যে সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হবে।
গতকাল এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সরকার এসেছে। তাদের প্রধান কাজ হচ্ছে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন করে জনগণের প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া। তবে যে জঞ্জাল আওয়ামী লীগ সরকার রেখে গেছে, তা দূর করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। একটি সঠিক, সুন্দর নির্বাচন করতেও সময়ের প্রয়োজন, এবং দেশের মানুষ সেই সময় অন্তর্বর্তী সরকারকে দেবে।’
বিএনপি মহাসচিব অন্তর্বর্তী সরকারের ১১ দিনের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। বৈঠকে আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়, এবং শীঘ্রই দলটির পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এছাড়া, পিলখানা বিদ্রোহের সময় ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি তোলার সিদ্ধান্তও হয় বৈঠকে।