বিশ্বের আবহাওয়া দিন দিন চরমভাবাপন্ন হয়ে উঠছে। বাংলাদেশে আজকের তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর অধিক। এই চরম তাপমাত্রায় মানুষের দমবন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। বৃক্ষ নিধন, কলকারখানার সংখ্যা বৃদ্ধি, যানবাহনের ধোঁয়া, পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ সহ বিভিন্ন কারণে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড এর পরিমাণ বৃদ্ধি এর পেছনে দায়ী।
উন্নত দেশগুলো কার্বন নির্গমনে সবচেয়ে এগিয়ে। তাদের কৃতকর্মের জন্য ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোকে। চলুন জানা যাক প্রধান কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলো সম্পর্কে।
অধিক কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলো
চীন: বিশ্বে সর্বোচ্চ কার্বন নির্গমনকারী দেশ। ২০২৩ সালে প্রায় ১১.৯ বিলিয়ন মেট্রিক টন কার্বন নির্গমন করেছে দেশটি।
যুক্তরাষ্ট্র: দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কার্বন নির্গমনকারী দেশ। ২০২৩ সালে প্রায় ৪.৯ বিলিয়ন টন কার্বন নির্গমন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে নির্গমনের হার কিছুটা হ্রাস পাচ্ছে।
ভারত: কার্বন নির্গমনে ভারতের অবস্থান তৃতীয়। ২০২৩ সালে নির্গমন ২.৮–৩.০৬ বিলিয়ন টন ।
রাশিয়া ও জাপান: রাশিয়ার কার্বন নির্গমন প্রায় ১.৮ বিলিয়ন টন। পক্ষান্তরে জাপানে প্রায় ০.৯৯ বিলিয়ন টন ।
২০২৩ সালে শীর্ষ ১০ দেশ একত্রে ২৪.৫ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন করেছে, যা ২০২২ সালের তুলনায় ৫৮২ মিলিয়ন টন বেশি । শীর্ষ তিন দেশ (চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত) একাই সমগ্র বিশ্বে ৫০ থেকে ৫৩ ভাগ কার্বন নির্গমন করে।
বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও প্রবণতা
২০২৪ সালে বৈশ্বিক কার্বন নির্গমন ০.৮ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। যা প্রায় ৪১.২ বিলিয়ন টন নির্গমনে পরিণত হয়েছে ।
পারিস চুক্তিতে নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪২ ভাগ হ্রাস করতে হবে; না হলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন আরও তীব্র হবে।
বৈশ্বিক নির্গমন এখনো বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জলবায়ু সংকটকে তীব্র করছে; দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া নির্গমন কমানো কঠিন হবে।