বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। বেড়েছে এর বাতাসের গতিবেগও। ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের দিকে। এটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা বা রাতে উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে এটি মাছিলিপত্তনম ও কলিঙ্গপত্তনমের কাকিনাড়ার কাছে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে।
অন্ধ্র প্রদেশে সর্বোচ্চ ৯০-১০০ কিলোমিটার বেগে বাতাসের গতিবেগ নিয়ে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উপকূলীয় এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে মোন্থা গত ছয় ঘণ্টা ধরে ১৫ কিলোমিটার বেগে উত্তর থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছে এবং প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে।
আইএমডির মহাপরিচালক ড. এম মহাপাত্র জানিয়েছেন, অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আঘাত হানার পর ঘূর্ণিঝড় মোন্থা কিছুটা দুর্বল হয়ে ওড়িশার দিকে অগ্রসর হবে।
মহাপাত্র আরও বলেন, মোন্থার প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ‘সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে’। ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, ছত্তিশগড় ও তামিলনাড়ুতে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় মোন্থার কারণে ওড়িশা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্য দিয়ে যাওয়া ৩২টি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বিশাখাপত্তনম- তিরুপতি, বিশাখাপত্তনম-চেন্নাই, বিশাখাপত্তনম- কিরণদুল, বিশাখাপত্তনম-কোরাপুট রুটে ট্রেন পরিষেবা বন্ধ থাকবে। সব মিলিয়ে ৬৫টিরও বেশি লোকাল এবং এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করেছে রেল।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় মোন্থার কারণে মঙ্গলবার অন্ধ্রপ্রদেশের গন্নাভরম বিমানবন্দরে ৩০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করার ঘোষণা করা হয়েছে। বিশাখাপত্তনম বিমানবন্দর থেকেও মঙ্গলবারের জন্য সমস্ত ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস