৭১
লাখ টাকা খরচ করেও ইতালি পৌঁছাতে পারেননি মাসুম মোল্লা ও রিপন শিকদার নামে দুই ব্যক্তি। ইতালি পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায় করেছে দালাল চক্র। পরিবারের অভিযোগ, মামলা করলেও পুলিশের তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। অন্যদিকে মাসুম ও রিপনকে ফেরত পাঠাতে আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করেছে আত্মগোপনে থাকা চক্রের মূলহোতা মুন্না হাওলাদার।
ভাগ্যবদল ও উন্নত জীবনের আশ্বাস দিয়ে দালাল চক্রের সদস্য নওশাদ, নজরুল, সোহাগ ও মোজাম্মেল তাদের প্রতারণার জালে ফেলে মুন্সীগঞ্জের রিপনের পরিবারকে। রাজি করায় একমাত্র ছেলেকে ইতালি পাঠাতে।
২০২৪ সালের ২৮ জানুয়ারি রাত ৯টার ফ্লাইটে দুবাইয়ের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন রিপন ও মাসুমসহ ৬ জন। পরবর্তী গন্তব্য দুবাই থেকে ইতালি হওয়ার কথা থাকলেও তাদের নিয়ে যাওয়া হয় লিবিয়ার বেনগাজিতে। সেখানে দালালদের হাতে আটকা পড়েন তারা। এরপর লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে চালানো হয় নির্মম নির্যাতন তাদের ওপর।
ভুক্তভোগী রিপনের পরিবারের অভিযোগ, মোজাম্মেলের প্রতারণার বিষয়ে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে সেখানেও আক্রমণের শিকার হন তারা। লিবিয়ায় মুক্তিপণের জন্য দালাল চক্র হাত পা বেঁধে মাসুম ও রিপনকে মারধরের ভিডিও পাঠায় পরিবারের কাছে।
রিপন ও মাসুমের স্বজনরা বলেন, দালালদের চাহিদা মত মুক্তিপণ দিতে গিয়ে সর্বশান্ত হয়েছেন তারা। এ পর্যন্ত লাখ লাখ টাকা দিয়েছে দুজনের পরিবার। মামলার তদন্ত নিয়েও জানিয়েছেন অসন্তোষ তারা।
লিবিয়ায় আটক মাসুমের ভাই সময় সংবাদকে জানান, নগদ ১৮ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। প্রথমে ৩ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে, পরে ১৫ লাখ টাকা দিয়েছি। মুক্তিপণ দাবি করল, তারা ভিডিও কল দেয়, ভয়ে ধরি না, প্রতিনিয়ত মারছে ভাইকে। ভাইয়ের মাইর দেয়া দেখে, আর সহ্য করতে পারি না। রিপনের স্ত্রী জানান, ৮ মাসের শিশু সন্তান বাবার মুখ দেখেনি এখনও। ঝাঁপসা চোখে রিপনের মায়ের আহাজারি তাদের একটাই দাবি, সন্তানকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা।
রাজধানীর শাহজাদপুরে হাওলাদার ট্রাভেলসের অফিসে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই নিরুদ্দেশ প্রতিষ্ঠানের মালিক মুন্না হাওলাদার। প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. মাহবুবুল হাসান বলেন, বস অফিসে আসেন না, কোনো যোগাযোগও করে না। অনেক দিন বন্ধ থাকার পর বাড়ির মালিক অন্য জায়গাতে ভাড়া দিয়ে দিয়েছে।
লিবিয়ায় মুক্তিপণের জন্য দালাল চক্র হাত পা বেঁধে মাসুম ও রিপনকে মারধরের ভিডিও পাঠায় পরিবারের কাছে।
সময় সংবাদের উপস্থিতিতেই মুন্নার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ হয় ভুক্তভোগীদের। এ সময় অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে রিপন ও মাসুমকে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেন তিনি। তবে সেখানেও গুণতে হবে মোটা অঙ্কের টাকা।