মাত্র দুই বছর আগে উদ্বোধন হওয়া সিলেটের কদমতলী বাস টার্মিনাল এখন অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবে ‘ধ্বংসের দিকে’ এগোচ্ছে। অত্যাধুনিক এ টার্মিনালটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ১১৭ কোটি টাকা। নির্মাণের মান, ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও ধারণক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মিউনিসিপ্যাল গভর্নেন্স সার্ভিস প্রজেক্টের আওতায় ৮ একর জায়গার ওপর নির্মাণ করা হয় টার্মিনালটি। 'আসাম টাইপ' নকশায় নির্মিত টার্মিনালটি ছিল দেশের অন্যতম আধুনিক বাস টার্মিনাল। এখানে রয়েছে প্রায় ৯৭০ আসনের যাত্রী বিশ্রামাগার, ৩০ আসনের ভিআইপি কক্ষ, ৩০টি টিকিট কাউন্টার ও আলাদা নামাজঘর। তবে উদ্বোধনের পর মাত্র দুই বছর পার না হতেই এর অবস্থা শোচনীয় হয়ে উঠেছে।
রোববার (২৫ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, টার্মিনালের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ধরেছে। বিশেষ করে বিশ্রামাগারের একটি দেয়ালে বিশাল ফাটল দেখা দিয়েছে, যেখানে কেবল দুটি লোহার খণ্ড বসিয়ে 'সাময়িক' ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওয়াচ টাওয়ার তালাবদ্ধ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। চেয়ারে লেগেছে জং, লাইট ঝুলে পড়ছে, ছাদে পানি চুঁইয়ে পড়ার চিহ্নও মিলেছে।
যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত ৯৭০ আসনের বিশ্রামাগার এখন অপরিচ্ছন্ন ও ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এমনকি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও টার্মিনালের দামি কাচের গ্লাসে সাঁটানো হয়েছে নির্বাচনী পোস্টার, যা কর্তৃপক্ষের অবহেলারই প্রতিফলন।
আজিজুল হক নামে নামে এক যাত্রী বলেন, এখানে এসে অপেক্ষা করতে ভয় লাগে। দেয়ালে ফাটল, উপরে ঝুলে থাকা লাইট- এভাবে কেউ কীভাবে নিরাপদে যাত্রা করবে?
প্রতিদিন সিলেট শহর থেকে প্রায় ৮০০ বাস চলাচল করলেও টার্মিনালের ধারণক্ষমতা মাত্র ২৮০ বাস। ফলে অধিকাংশ বাস রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়, যার ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। সড়ক দখল করে রাখা বাসের কারণে সাধারণ মানুষ, পথচারী ও যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
এ
বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা সমস্যাগুলো সম্পর্কে অবগত। টার্মিনালের জায়গা সংকট রয়েছে, তাই নতুন করে জায়গা অধিগ্রহণ করে টার্মিনাল সম্প্রসারণের প্রস্তাবনা রয়েছে। এছাড়া সংস্কার কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।’