“অনেক চাপ যাচ্ছে নাকি?!"
এই প্রশ্ন আজকাল আর শুধু বয়স্কদের জন্য প্রযোজ্য নয়। এখন তরুণ-তরুণীদের মধ্যেও উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্কের মতো।
হাইপারটেনশন কী?
হাইপারটেনশন হলো এমন এক স্বাস্থ্য সমস্যা, যেখানে রক্তের চাপ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি হয়ে যায়। সাধারণত ১২০/৮০ mmHg কে স্বাভাবিক রক্তচাপ ধরা হয়। যখন এটি ১৪০/৯০ বা তার বেশি হয়, তখন তাকে হাইপারটেনশন বলা হয়।
কেন একে “নিঃশব্দ ঘাতক” বলা হয়?
কারণ এই রোগের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না, আবার দীর্ঘমেয়াদে এটি হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি বিকলসহ নানা জটিল রোগ ডেকে আনতে পারে।
বাংলাদেশে হাইপারটেনশনের চিত্র
ব্র্যাক ও আইসিডিডিআর’বি’র এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটিরও বেশি মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, যাদের অনেকেই জানেন না যে তারা এই রোগে আক্রান্ত।
হাইপারটেনশনের কারণ:
•অতিরিক্ত লবণ খাওয়া
•বেশি ওজন
•ব্যায়ামের অভাব
•ধূমপান ও মদ্যপান
•অতিরিক্ত মানসিক চাপ
•জেনেটিক বা বংশগত কারণ
সমাজের কিছু ভুল ধারণা:
“হাই প্রেশার তো শুধু বুড়োদের হয়।”
“ওষুধ খেলেই ঠিক হয়ে যাবে, বন্ধ করলেই চলবে!”
“আমার শরীর তো ভালোই আছে, টেস্ট করার দরকার কী?”
"এত অল্প বয়সে তোর আবার কীসের হাই প্রেশার রে?!"
এসব ভুল ধারণা মানুষকে চিকিৎসার বাইরে রাখে এবং জটিলতাকে বাড়িয়ে তোলে।
প্রতিরোধ ও করণীয়:
নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন
লবণ খাওয়া কমান
হাঁটা ও হালকা ব্যায়াম করুন
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকুন
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না।
হাইপারটেনশন একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগ, তবে তা সচেতনতা ও নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে।
যদি আমরা শরীরের চাপ কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি তাহলে জীবনের চাপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণিত হবে।