চেক ডিজঅনারের মামলায় চেকে উল্লেখিত আর্থিক দায় সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হলে এবং মামলা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আপস-মীমাংসা হলে কারাদণ্ড বহাল রাখা সমীচীন নয় বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় দায়ের করা একটি মামলার রায়ে আদালত এ পর্যবেক্ষণ দেন। বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ ‘মো. আবদুল হান্নান মাস্টার বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য’ মামলায় এ সিদ্ধান্ত দেন।
আদালত বলেন, চেক ডিজঅনার মামলার মূল উদ্দেশ্য কাউকে কারাগারে পাঠানো নয়; বরং পাওনা অর্থ আদায় নিশ্চিত করা। তাই চেকের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ এবং দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কারাদণ্ড বহাল রাখা সমীচীন নয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের আবদুল হান্নান মাস্টার ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে বকেয়া ২৮ হাজার ১২৫ টাকার বিপরীতে দেওয়া চেকটি পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় ডিজঅনার হয়। পরে এ ঘটনায় মামলা হলে ২০১৩ সালে তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৮৪ হাজার ৩৭৫ টাকা জরিমানা করা হয়।
আপিল চলাকালে তিনি চেকের বকেয়া অর্থ পরিশোধ করেন এবং চলতি বছরের ২১ জুলাই ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের সঙ্গে আপসনামা করেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট তার এক বছরের কারাদণ্ড বাতিল করেন। একই সঙ্গে জরিমানার পরিমাণ চেকের অঙ্কের সমপরিমাণ ২৮ হাজার ১২৫ টাকা নির্ধারণ করেন।