সব সময় সব খানে


শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬

১৬ কার্তিক ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
১৬ কার্তিক ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> পঞ্চগড়ে এইচএসসির ফলাফলে দুই কলেজে পাস করেনি কোনো শিক্ষার্থী।

>> সিলেটের এমসি কলেজে এইচএসসিতে পাসের হার ৯৮.০৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮৮ শিক্ষার্থী।

>> আকরাম হত্যার পর একে একে মুখ খুলছেন নারীরা বিয়ের নামে লাখ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগ মারুফের বিরু‌দ্ধে

>> সিরাজগঞ্জে যুবলীগের ঝটিকা মিছিলের পর চার পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

>> ভাঙ্গায় ট্রাকভর্তি ২৫০ বস্তা সার জব্দ: ডিলার আটক

>> যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

>> হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফাহিম ফয়সাল

>> মানুষের কল্যাণে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান লালমনিরহাট যুবদল নেতাদের

>> ভাঙ্গায় সাবেক চেয়ারম্যান লাভলুর অভিযোগের প্রতিবাদে প্রবাসী মিঠুর সংবাদ সম্মেলন

>> পেনসিলভানিয়ায় কোম্পানীগঞ্জ সোসাইটির নতুন কমিটি, সভাপতি রাকিব, সম্পাদক সোহাগ

আপনি পড়ছেন : লালমনিরহাট

সৎমার নির্মম নির্যাতনে ৭ বছরের রেহেনা, প্রতিবেশীদের সতর্কতায় পুলিশের অভিযান


সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট জেলা ক্রসপন্ডেন্ট

eshomoy.com || 2025-05-21
সৎমার নির্মম নির্যাতনে ৭ বছরের রেহেনা, প্রতিবেশীদের সতর্কতায় পুলিশের অভিযান
প্রতীকী ছবি

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় সৎমার দীর্ঘদিনের পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ৭ বছরের শিশু রেহেনা খাতুন গুরুতর আহত হয়েছে। যৌনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন এসিড প্রয়োগ, কামড়ানো ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে সৎমা সাবানা বেগম কোহিনুরকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ মে) সন্ধ্যায় ফকিরপাড়া ইউনিয়নের রমণীগঞ্জ এলাকা থেকে অভিযুক্তকে আটক করা হয়। অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় শিশুটিকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।  

রেহেনার বাবা রবিউল ইসলাম (৪০) পেশায় ট্রাকচালক। দুই বছর আগে রেহেনার মায়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি সাবানা বেগমকে বিয়ে করেন। রবিউল ইসলামের দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগে সৎমা শিশুটিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। মঙ্গলবার সকালে সাবানা বেগম রেহেনার শরীরে এসিড প্রয়োগ ও কামড়ানোর সময় শিশুটির চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ঘরে ঢোকে। তারা রেহেনাকে রক্তাক্ত ও অর্ধমৃত অবস্থায় দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।

হাতীবান্ধা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, শিশুটির শরীরে যৌনাঙ্গসহ বিভিন্ন গভীর আঘাত, দগ্ধ ও কামড়ের চিহ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে। জটিলতার কারণে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়েছে।  

শিশুটির বাবা রবিউল ইসলাম বলেন, "আমি ট্রাক চালাই, দিনে একবার বাড়ি আসি। সৎমা আমার মেয়েকে এসিড দিয়েছে, কামড়েছে। গায়ে কোনো জায়গা ঠিক নেই। এত নির্মমতা কীভাবে সম্ভব?" তিনি আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানান।  

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন নবী জানান, অভিযুক্ত সাবানা বেগমকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে। শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, "এ ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে"।

এই ঘটনায় শিশু অধিকার সংগঠনগুলো তদন্তের তীব্র দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি, সমাজে সৎ পরিবারে শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা।