লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে দুই সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন মিঠুন বর্মণ ও মো. বেলাল হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্প, সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষা-সংক্রান্ত কার্যক্রমে তারা নিয়মবহির্ভূতভাবে টাকা গ্রহণ করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন ২০২৫ এর প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। এর মধ্যে মিঠুন বর্মণ ৩,০০০ টাকা এবং বেলাল হোসেন ৩,৫০০ টাকা সম্মানী হিসেবে গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিধি অনুযায়ী এসব অর্থ গ্রহণের কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকায় শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ আরও আছে, বিদ্যালয় পর্যায়ে বিভিন্ন বরাদ্দের কাজ সম্পাদনের পর প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার জন্য তারা বরাদ্দের পরিমাণ অনুযায়ী ১,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণ করেন। এছাড়া, নিম্নমানের উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে স্লিপ ফান্ডসহ অন্যান্য বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শিক্ষা অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মো. জাকিউজ্জামান জানান,
“আমি সম্প্রতি অফিসে যোগদান করেছি। আমার কাছে হাতীবান্ধা নাগরিক পার্টির তিন সদস্যের স্বাক্ষরে একটি অভিযোগপত্র এবং টংভাঙ্গা ইউনিয়নের নাজির হোসেন নামে এক ব্যক্তির একই অভিযোগপত্র এসেছে। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রসঙ্গত, বেলাল হোসেন প্রায় এক দশক ধরে হাতীবান্ধা শিক্ষা অফিসে কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে।