সব সময় সব খানে


শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬

১৬ কার্তিক ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
১৬ কার্তিক ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> পঞ্চগড়ে এইচএসসির ফলাফলে দুই কলেজে পাস করেনি কোনো শিক্ষার্থী।

>> সিলেটের এমসি কলেজে এইচএসসিতে পাসের হার ৯৮.০৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮৮ শিক্ষার্থী।

>> আকরাম হত্যার পর একে একে মুখ খুলছেন নারীরা বিয়ের নামে লাখ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগ মারুফের বিরু‌দ্ধে

>> সিরাজগঞ্জে যুবলীগের ঝটিকা মিছিলের পর চার পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

>> ভাঙ্গায় ট্রাকভর্তি ২৫০ বস্তা সার জব্দ: ডিলার আটক

>> যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

>> হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফাহিম ফয়সাল

>> মানুষের কল্যাণে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান লালমনিরহাট যুবদল নেতাদের

>> ভাঙ্গায় সাবেক চেয়ারম্যান লাভলুর অভিযোগের প্রতিবাদে প্রবাসী মিঠুর সংবাদ সম্মেলন

>> পেনসিলভানিয়ায় কোম্পানীগঞ্জ সোসাইটির নতুন কমিটি, সভাপতি রাকিব, সম্পাদক সোহাগ

আপনি পড়ছেন : লালমনিরহাট

গ্রামের ধীরগতির বাহন আজ কেবল স্মৃতিতে রয়ে গেছে


মোঃ বিপুল ইসলাম - স্টাফ রিপোর্টার

eshomoy.com || 2025-08-27
গ্রামের ধীরগতির বাহন আজ কেবল স্মৃতিতে রয়ে গেছে
ই স ম য়

উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য জেলার মতো লালমনিরহাটের গ্রামীণ জীবনের একসময়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল গরু বা মহিষের গাড়ি। ধান-পাট বহন, মালামাল পরিবহন কিংবা মানুষের যাতায়াত—সবক্ষেত্রেই এটি ছিল গ্রামের অপরিহার্য বাহন। জনপ্রিয় গান “আমার গরুর গাড়িতে বউ সাজিয়ে...” আজও সেই সময়ের স্মৃতিকে জাগ্রত করে।

একসময় উত্তরাঞ্চলের মেঠোপথে প্রধান পরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত হতো গরুর গাড়ি। বিয়ের শোভাযাত্রা থেকে কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া—সবক্ষেত্রেই এর ব্যবহার ছিল অপরিসীম। তবে যান্ত্রিক যুগের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এই ধীরগতির, পরিবেশবান্ধব বাহনটি এখন প্রায় বিলুপ্ত।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় চার হাজার বছর আগে প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় প্রথম চাকাওয়ালা গাড়ির ব্যবহার শুরু হয়। পরে সিন্ধু সভ্যতা ও ভারতীয় উপমহাদেশেও গরুর গাড়ি পরিবহনের অন্যতম বাহন হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের আশি বছরের প্রবীণ রমজান আলী স্মৃতিচারণ করে বলেন, “দুই যুগ আগে গরুর গাড়ি ছাড়া বিয়ে হতো না। বরযাত্রা, মাল পরিবহন—সবকিছুতেই গরুর গাড়ি ছিল অপরিহার্য। গ্রামের যেসব পরিবারে গরুর গাড়ি ছিল, তাদের কদরও বেশি। এখনো আমাদের গ্রামের অনেক এলাকায় মাঝে মাঝে গরুর গাড়ি চোখে পড়ে, যা স্মৃতি হিসেবে মনের গভীরে নাড়া দেয়।”

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের প্রবীণ কৃষক আজগার আলী জানান, “এখনও মাঝে মাঝে কৃষিকাজে গরুর গাড়ির ব্যবহার হয়। গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে গরুর গাড়ি নিয়ে ভাওয়াইয়া গানও। ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’ কিংবা ‘আস্তে বোলাও গাড়ি...’—এসব লোকগীতি আজও মানুষের আবেগকে নাড়া দেয়।”

তবে আধুনিক মোটরযানের কারণে গরুর গাড়ির ব্যবহার এখন নেই বললেই চলে। লালমনিরহাটের স্কুল শিক্ষক মাসুদ রানা বিপ্লব বলেন, “কৃষিনির্ভর জনপদে একসময় গরুর গাড়িই ছিল মানুষের প্রধান ভরসা। এখন যন্ত্রচালিত যানবাহনের কারণে এটি শুধু ইতিহাস হয়ে আছে।”

মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের প্রবীণ কৃষক আবু সালাম ও ইব্রাহিম হক জানান, “ধান কাটা থেকে বিয়ের শোভাযাত্রা—সবকিছুতেই গরুর গাড়ি ব্যবহার হতো। এটি সম্পূর্ণ জ্বালানিমুক্ত, দূষণহীন ও দুর্ঘটনাহীন পরিবহন।”

প্রবীণ সাংবাদিকদের মতে, “এখন গ্রামের অনেক শিশু জানেই না গরুর গাড়ি দেখতে কেমন। লোকজ মেলা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রদর্শন হলেও তা কেবল ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা মাত্র।”

রংপুর পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও সংস্কৃতি গবেষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “গরুর গাড়ি শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়; এটি বাঙালির সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত ঐতিহ্য। প্রযুক্তির বিকাশে এর ব্যবহার কমলেও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণ করা জরুরি।”


ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হলেও গরুর গাড়ির স্বর্ণালী দিনগুলো আজও স্মৃতির পাতায় জীবন্ত।