লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় সামান্য একটি গাছের ডাল নিয়ে বিরোধের জেরে প্রাণ হারালেন আনোয়ার হোসেন (৩৪)। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শিংঙ্গীমারী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট সকালে সড়কের পাশে থাকা একটি সরকারি গাছের ডাল ভেঙে পড়ে আনোয়ার হোসেনের জমিতে। পরে তিনি সেই ডাল সংগ্রহ করতে গেলে প্রতিবেশী শহিদুল ইসলাম ও তার ভাই শাহ আলম বাধা দেন। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শহিদুল ও শাহ আলম আনোয়ার হোসেনের মাথায় আঘাত করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে টানা ১৪ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে অবশেষে রবিবার (৩১ আগস্ট) সকালে তিনি মারা যান।
এর আগে ঘটনাটি নিয়ে আনোয়ার হোসেনের পরিবার হাতীবান্ধা থানায় মামলা দায়ের করেছিল। তবে মামলার আসামি শহিদুল ও শাহ আলম জামিনে মুক্তি পান।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দেয়। দুপুরে লাশবাহী গাড়ি হাতীবান্ধা উপজেলায় পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী লাশ নিয়ে হাতীবান্ধা মেডিকেল মোড়ে মানববন্ধন করেন। এ সময় তারা বুড়িমারী-লালমনিরহাট মহাসড়ক অবরোধ করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এলাকাবাসীর অভিযোগ,
“একটি ডাল নিয়ে তর্ক-বিতর্কের জেরে একজন মানুষকে প্রাণ দিতে হবে—এটি অমানবিক। যদি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি না দেওয়া হয়, তাহলে এ ধরনের ঘটনা আবারও ঘটবে।”
আনোয়ার হোসেনের স্বজনরা বলেন,
“আমরা ন্যায়বিচার চাই। যাদের কারণে আমাদের পরিবারের অভিভাবককে হারাতে হলো, তাদের যেন কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া না হয়।”
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ওসি তদন্ত জানান,
“মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।