তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, “একটি রাজনৈতিক সরকার ছাড়া প্রশাসন কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারে না।”
লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়কে মহেন্দ্রনগর বিশ্ব গোডাউন সংলগ্ন রাস্তা এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ থাকলেও জেলা প্রশাসনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করার প্রতিবাদে লালমনিরহাটের সাধারণ জনগণের আয়োজনে জেলা শহরের মিশন মোড় এলাকায় এক অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
দুলু বলেন, “বর্তমানে প্রশাসনের ওপর তদারকি করার মতো কেউ নেই। তারা পুরোপুরি স্বাধীন, জনগণের কাছে কোনো দায়বদ্ধতা বা জবাবদিহিতা নেই। এজন্যই আমাদের প্রতি এত অবহেলা ও অযত্নের চিত্র দৃশ্যমান। বিশেষ করে লালমনিরহাট জেলা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হয়েছে। এই বৈষম্য আর চলতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “বুড়িমারী থেকে তিস্তা লালমনিরহাট জেলার লাইফলাইন। সামান্য একটি ট্রাক উল্টে পড়ার কারণে ইলেকট্রিক টাওয়ারে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আমার আশা করেছিলাম এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসন যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করবে। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্তরা এখনও সচল করতে পারেননি।”
দুলু অভিযোগ করেন, “প্রশাসনের ও দায়িত্বশীলদের বিভিন্ন অজুহাতের কারণে কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। সকাল হবে, বিকেল হবে — এই ধরনের কথাবার্তা চলছেই। আমি প্রায় সাত দিন অপেক্ষা করেছি এবং ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্ট সব দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। অথচ তারা একজন আরেকজনকে দোষারোপ করছে।”
তিনি আরও জানান, “যখন কর্মসূচি ঘোষণা হয়ে গেলো, তখন প্রশাসন নড়েচড়ে বসে এবং আমার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে। এমারজেন্সি অবস্থায় যদি মহিপুর ব্রিজে যোগাযোগ লাইন খুলে দেওয়া হতো, তাহলে জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের বিকল্প ব্যবস্থা রাখা যেত। প্রথম দিন যদি তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিত, তবে আমাদের অঞ্চলের অন্যান্য রাস্তা ও সড়কগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত হতো না।”
দুলু অভিযোগ করেন, কুলাহাট, মহেন্দ্রনগর ও কাজী চৌরা রাস্তায় বড় যানজটের কারণে এম্বুলেন্স পর্যন্ত চলাচল করতে পারছে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, “প্রশাসন যদি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না করে, তবে আগামীকাল থেকে বৃহত্তর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হব।” তিনি আরও বলেন, “এমন পরিস্থিতি দীর্ঘদিন থাকার পরও সংবাদমাধ্যম এ বিষয়ে যথাযথভাবে প্রচার করেনি। আশা করি, সংবাদমাধ্যম সক্রিয় হলে দ্রুত সমস্যা সমাধান সম্ভব হবে।”
উক্ত অবস্থান কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট ফজলুল হক সরকার, সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মমিনুল হক, সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম ফারুক সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সভাপতি আফজাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, জেলা মহিলাদলের সভাপতি এ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি, সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুমান আরা শাপলা, বিএনপির সকল অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষ।