লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় বেশ কয়েকটি পেট্রোল পাম্পের বিরুদ্ধে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম তেল দেওয়া এবং ভেজাল তেল সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এতে মোটরসাইকেল চালকসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,,সাম্প্রতিক সময়ে একই পরিমাণ টাকা দিয়ে আগের তুলনায় কম দূরত্ব অতিক্রম করা যাচ্ছে। এতে করে জ্বালানির পরিমাণ ও মান নিয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। অনেকেই বলছেন, তেল নেওয়ার পরপরই যানবাহনের ইঞ্জিনে অস্বাভাবিক শব্দ, শক্তি কমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত তেল খরচের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
উপজেলার বাসিন্দা ও মোটরসাইকেল চালক একরামুল হক বলেন, “আগে ৩০০ টাকার তেলে যেখানে ৮০-৯০ কিলোমিটার চলতাম, এখন ৬০-৬৫ কিলোমিটারের বেশি যায় না। এটা শুধু আমার একার না, অনেকেই একই সমস্যায় ভুগছে।
আরেক ভুক্তভোগী আশরাফ আলীর অভিযোগ, “পাম্পের মেশিন ঠিকমতো ক্যালিব্রেশন করা হয় না। ফলে আমরা যে টাকা দিচ্ছি, সেই অনুযায়ী তেল পাচ্ছি না।”
বড়খাতার বাসিন্দা রাসেল আহমেদ জানান জ্বালানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে মেশিনের সঠিক মাপজোক নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত তদারকি না থাকলে এ ধরনের অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এসব অনিয়ম চললেও কার্যকর নজরদারির ঘাটতি রয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ঘাটতি, দীর্ঘ লাইন এবং বিশৃঙ্খলার খবর মিলছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই অস্থিরতাকে পুঁজি করে কিছু অসাধু চক্র তেল বিক্রিতে কারচুপির আশ্রয় নিচ্ছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কয়েকটি পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা সরকার নির্ধারিত নিয়ম মেনেই তেল সরবরাহ করছে। তাদের দাবি, সরবরাহে চাপ থাকলেও কম দেওয়া বা ভেজালের অভিযোগ ভিত্তিহীন।
স্থানীয়দের দাবি, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত তদন্ত, নিয়মিত নজরদারি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।