eshomoy.com || 2024-04-04
লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলায় এক বিধবা নারী দীর্ঘ ৯ মাস ধরে মাতবরের সিদ্ধান্তে একঘরে হয়ে রয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়,
আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া এলাকায় সরকারি কালভার্টের মুখ বন্ধ করে পানি নিষ্কাশনের করার জন্য জোরপূর্বক এক বিধবা নারীর বাড়ির ভেতর দিয়ে ড্রেন নির্মাণের চেষ্টা করেন ওই গ্রামের মাতবর সোলেমান আলী ও তার লোকজন।
এতে বাধা দেন বিধবা লিপি বেগম। পরে ড্রেন নির্মাণে ব্যর্থ হওয়ায় মাতবরের সিদ্ধান্তে লিপির পরিবারকে ‘একঘরে’ করা হয়। এ ঘটনার কিছুদিন পর প্রতিবেশীর বিয়ের দাওয়াতে লিপির পরিবারকে দাওয়াত করা হলে মাতবরের চাপে সেই দাওয়াত ফেরত নেন প্রতিবেশী। ফলে একঘরে করার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।বিষয়টি নিয়ে গত বছরের ৭ জুলাই সকালে একঘরে করার কারণ জানতে চাইলে মাতবর সোলেমান আলীর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয় লিপির ছেলে মিজানুর রহমানের। এক পর্যয়ে তা হাতাহাতি হলে সেখানে যুক্ত হন মাতবর সোলেমান আলীর লোকজন। এ সময় লিপির ঘরবাড়ি ও মুদির দোকান ভাঙচুর করে মাতবরের লোকজন। এ সময় লিপির জামাই হায়দার আলী আহত হন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করলে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওই দিন লিপির ছেলে বাদী হয়ে মাতবর সোলেমান আলীসহ ৬ জনের জনের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাতবর সোলেমান আলীর ভাই মকবুল হোসেন পরদিন ৮ জুলাই লিপিসহ তার পরিবারের ৬ জন সদস্যের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন। এ অভিযোগে বাদী মকবুল হোসেন দাবি করেন, অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকায় দুই বছর আগেই লিপি বেগমের পরিবারকে সমাজচ্যুত (একঘরে) করা হয়েছে। আর সেই সমাজের সভাপতি তার ভাই মাতবর সোলেমান আলী।
এসব বিষয় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপারকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে এসে তিনি নেননি কোনো ব্যবস্থা, দাবি লিপি বেগমের।
এক ঘরে করার ঘটনায় গত বছরের ১৯ জুলাই বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পত্র দেয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ ৯ মাসেও কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজনকে আজও ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না স্থানীয় মসজিদে। কথা বলতে পারছেন না আশপাশের কারও সঙ্গে। এমনকি মাতবরের ভয়ে বিধবা নারীর দোকান থেকেও কেউ কোনো কিছু কিনছেন না।
ভুক্তভোগী লিপি বেগম জানান, তাকে একঘরে করার পর বিষয়টি নিয়ে আদিতমারী থানায় যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে কোনো বিচার না পাওয়ায় পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানালে ঘটনাস্থলে পুলিশ সুপার এসে মাতবরের সঙ্গে কথা বলে চলে যান।
অভিযুক্ত মাতবর পশ্চিম দৌলজোর মাষ্টার পাড়া জামে মসজিদের সাবেক সভাপতি সোলায়মান আলী জানান, তিনি কোনো মামলা ভয় পান না। কারণ পুলিশ, সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে তার সব জায়গায় লোক আছে।
- এ বিষয়ে পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম কোনো কথা বলতে রাজি নন। আর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্যাহ জানান, এক ঘরে করার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশ সুপারকে অবগত করা হয়ে ছিল। কিন্তু ঘটনাটি এখনও সমাধান হয়নি তা আমার জানা ছিল না।