টানা ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি বিপদসীমা ছুঁয়ে যাওয়ার আতঙ্কে নিম্নাঞ্চলের মানুষ - সেই সাথে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢালে আবার বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলসহ লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়ে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে - বিপৎসীমা ছুয়ে যাওয়া অবস্থা । হঠাৎ তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাট সদরের তিস্তা নদীর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল সহ জেলার হাতিবান্ধা ও আদিমতমারী উপজেলার গোবরধন,গড্ডিমারী, গরীবুল্লাহ পাড়াসহ নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে তিস্তা পারের বাসিন্দারা।শনিবার (৬ জুলাই) সকাল ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ০৫ মিটার। যা বিপদসীমার মাত্র ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার সদর উপজেলার হরিণচওড়ার বাসিন্দা মশিয়ার রহমান সাংবাদিকদের জানান ,গতকাল শুক্রবার তিস্তার পানি বেশ কম ছিলো। হঠাৎ রাত থেকে পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। পানি আরও বাড়লে বাড়িঘরের প্রবেশ করবে।
একই এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ১৮-২২ জুনের স্বল্প মেয়াদী বন্যার ভোগান্তি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই তিস্তার পানি আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ১৫ দিনে অন্তত ৫ বার তিস্তার পানি বাড়া-কমা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রাত থেকে আবারও পানি বাড়া শুরু হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী আসফা উদ দৌলা বলেন, উজানের ঢলে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করেছে। পানির চাপ সামলাতে ৪৪টি গেট খুলে রাখা হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার রায় বলেন, গত দুইদিনের বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখনও বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। নদীর পানি বাড়ায় কিছু নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করছে। এছাড়া কয়েকটি পয়েন্টে ভাঙন রয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি আপদকালীন কাজ হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলা হবে।