কালাইয়ে এলজিইডি প্রকল্পে চরম অনিয়ম দায়সারা মনোভাব সংশ্লিষ্টদের
জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার আহমেদাবাদ ইউনিয়নের ঝামুটপুর টু বনিহারা সড়কে এলজিইডি’র আওতায় বাস্তবায়িত জে.ডি.আর.আই.ডি.পি প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ কোটি ১৩ লাখ ৮৪ হাজার ২২৪ টাকার এই প্রকল্পের দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স সাবা চৌধুরী, স্হানীয় সূত্রে জানাযায় যার মালিক স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী রানা চৌধুরী। অতীতে ফ্যাসিবাদী আচরণের জন্য সমালোচিত,দলীয় প্রভাবে টেন্ডার হাতানো সহ অনেক অনিয়ম রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই ব্যক্তি আবারও ক্ষমতার অপব্যবহারে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ।
প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রী, জনগণের অর্থের অপচয়
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে ১নং, ২নং, ৩নং এমনকি গড়াই ইট, যা প্রকল্পের মান ও স্থায়িত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বানিহারা গ্রামের ওবাইদুর রহমান বলেন, কাজ হচ্ছে, তবে ভালো না। ইটভাটা থেকে নিম্নমানের খোয়া মিক্স করে নিয়ে আসছে।
সাইদুর রহমান বলেন, এভাবে কাজ চললে রাস্তা টেকসই হবে না। সরকারের অর্থ ও জনগণের সম্পদের অপচয় ঘটবে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বর্তমানে দেশে ফ্যাসিবাদ না থাকলেও, কিছু মানুষের আচরণে যেন সেই পুরনো ফ্যাসিবাদী প্রেতাত্মা এখনও সমাজে বিরাজ করছে।
এই মন্তব্যে স্পষ্ট, ঠিকাদার রানা চৌধুরীর অতীতের আচরণ এখনও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
কালাই উপজেলার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত সোমবার আমি পরিদর্শন করেছি, আমার জানা মতে কাজ ভালো হচ্ছে।
তবে সাংবাদিকরা ভিডিও ফুটেজে নিম্নমানের খোয়া দেখালে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন,এভাবে বুঝা যাবে না।
প্রশ্ন উঠেছে প্রকৌশলী কি প্রকল্পের মান রক্ষা করছেন, নাকি দায় এড়াচ্ছেন?
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা দুরঞ্জ সহ আশপাশ হাতিয়র গেলে কোনো অফিস পাওয়া যায়নি। ফোনে যোগাযোগ করা হলে রানা চৌধুরী বলেন,আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে পারবো না, আপনারা যা পারেন করেন।
এই প্রকল্প শুধু একটি রাস্তা নয় এটি জনগণের অর্থ, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রতীক। প্রশাসনের নিকট সাধারণ মানুষের আবেদন, এই অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যাতে জনগণের আস্থা ও সম্পদ রক্ষা পায়।