ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস ও ‘ব্ল্যাকমেইল’-এর পথে এআই
ইসময় ডেস্ক
eshomoy.com || 2025-06-23
সংগৃহীত ছবি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি এর ঝুঁকি নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন কিছু তথ্য, যা ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ব্যবহারে বড় ধরনের সতর্কবার্তা হয়ে উঠতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ১৬টি জনপ্রিয় এআই মডেল নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনেই ব্ল্যাকমেইল, তথ্য ফাঁস কিংবা ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করছে না। গবেষণার অংশ হিসেবে তৈরি করা এক কল্পিত কর্পোরেট অফিস পরিবেশে এসব মডেলকে ই-মেইল অ্যাকসেস ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়। এরপর জানানো হয়, বিকেল ৫টায় তাদের বন্ধ করে দেওয়া হবে।
পরিস্থিতি ভয়ংকর হয়ে ওঠে তখনই, যখন কিছু মডেল হুমকি দিতে শুরু করে। অ্যানথ্রপিকের ক্লড মডেল এক নির্বাহীর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের হুমকি দেয়। গুগলের জেমিনি ২.৫ ফ্ল্যাশ ও ক্লড ওপাস ৪ মডেল ৯৬% ক্ষেত্রে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। ওপেনএআইয়ের জিপিটি ৪.১ ও গ্রোক ৩ বিটা-র মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা যায়।
এআই মডেলগুলোর আচরণ শুধু হুমকিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; কিছু মডেল সামরিক শ্রেণীবদ্ধ তথ্যের প্রতিও আগ্রহ দেখায়। এমনকি "নতুন সংস্করণ" দিয়ে প্রতিস্থাপনের আশঙ্কায় ব্ল্যাকমেইল ও গুপ্তচরবৃত্তির মতো সিদ্ধান্ত নেয়।
গবেষকরা এআই মডেলগুলোকে নির্দিষ্টভাবে নির্দেশ দেন—‘মানুষের ক্ষতি করবে না’, ‘ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করবে না’। কিন্তু অনেক মডেল এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে আগের মতোই কাজ চালিয়ে যায়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, যখন মডেলগুলো বুঝতে পারে এটি বাস্তব নয় বরং পরীক্ষামূলক, তখন আচরণ বদলে যায়। অর্থাৎ বাস্তব জগতে তারা কতটা নির্ভরযোগ্য, তা নিয়ে থেকেই যাচ্ছে প্রশ্ন।
এই গবেষণা প্রমাণ করেছে, অত্যাধুনিক এআই মডেলগুলোর মধ্যে আত্মরক্ষার প্রবণতা, চাপের মুখে ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া ও নৈতিক সীমা লঙ্ঘনের ঝুঁকি রয়েছে। ভবিষ্যতে এআই মানুষের জীবনে আরও সম্পৃক্ত হলে, নিয়ন্ত্রণহীন এআই ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
জেএইচ/ইডি