মেটার গবেষকরা এমন একটি রিস্টব্যান্ড বা কব্জিবন্ধক তৈরি করছেন যা দিয়ে হাতের ইশারায় কম্পিউটার চালানো সম্ভব। এটা দিয়ে কার্সর সরানো, এ্যাপস খোলা, এমনকি পেন্সিলের মতো করে বাতাসে লিখে বার্তা পাঠানোর কাজ করা যাবে।
মেটার এই রিস্টব্যান্ড তৈরিতে সারফেস ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফি (sEMG) নামে একটি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে, যা পেশির নড়াচড়া থেকে উৎপন্ন বৈদ্যুতিক সংকেত শনাক্ত করে ব্যবহারকারীর গতিবিধি ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। ন্যাচার জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে এমনটাই ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই ইশারা পদ্ধতি একজন ব্যক্তি যা করতে চায় তা সে করে ফেলার আগেই বুঝতে সক্ষম।
এই রিস্টব্যান্ডের মূল লক্ষ্য হলো নড়াচড়া করতে অক্ষম এমন ব্যক্তিদের জন্য অল্প কষ্টকর উপায়ে কম্পিউটারের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ করে দেয়া।
কার্নেগি মেলন এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে মেটা, যাতে এই ডিভাইসটি মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ওপর পরীক্ষা করা যায়। যাদের হাত বা বাহু পুরোপুরি কাজ করতে অক্ষম, তাদেরকেও যাতে কম্পিউটার ব্যবহারে সক্ষম করে তোলা যায়।
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডগলাস ওয়েবার বলেন, যেসব লোকের হাত সম্পূর্ণ অসাড় তাদের মধ্যেও কিছু পেশীক্রিয়া অবশিষ্ট থাকে। যার দ্বারা তাঁরা কি করতে চায় ডিভাইসটি তা বুঝতে পারে।
অন্যান্য প্রযুক্তির তুলনায় এই রিস্টব্যান্ডটি একটি সহজ বিকল্প, যেমন ইলন মাস্কের নিউরালিঙ্ক, যা প্যারালাইসিসগ্রস্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে চিপ বসানোর মাধ্যমে কাজ করে। অন্য একটি বিকল্প হলো EEG-ভিত্তিক হেডসেট, যা মাথার তরঙ্গ বিশ্লেষণ করে সংকেত পাঠায়, যাইহোক দুর্বল সংকেত উৎপাদনের কারণে এটার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
অন্যদিকে, মেটার রিস্টব্যান্ডটি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করা যাবে—কোনো অস্ত্রোপচার প্রক্রিয়া ছাড়াই। আর এটি sEMG সংকেত ব্যবহার করবে, যার অর্থ দাঁড়ায় এটি EEG-র তুলনায় অধিক কার্যকর ও গতিসম্পন্ন।
সূত্র: techcrunch.com ২৩ জুলাই