ঢাকা, সোমবার, ১১ মার্চ, ২০২৪: শেরপুরের নকলায় দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানাকে কথিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদন্ডের ঘটনা ঘটে।
ঐদিন আসলে কী ঘটেছিল তা সরেজমিনে জানা দরকার । যতদূর জানাগেছে, সরকারী কম্পিউটার কেনায় অনিয়মের ঘটনার সংবাদ প্রকাশের জন্য তথ্য চেয়ে আবেদন করেন সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানা।
এই তথ্য চাওয়াকে কেন্দ্র করে শেরপুরের নকলা ইউএনও সাদিয়া উম্মুল বানিনের নির্দেশে এসিল্যান্ড মো: শিহাবুল আরিফকে দিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে যে প্রক্রিয়ায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে তা গ্রহনযোগ্য নয়।
এসিল্যান্ড মোঃ শিহাবুল আরিফ কি তখন নির্বাহি মেজিস্ট্রেট হিসাবে দায়িত্বরত ছিলেন?
মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ এর ধারা ০৫ অনুযায়ী -
মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা অর্পণ
সরকার সমগ্র দেশে কিংবা যে কোন জেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকায় যে কোন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে, এবং ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট তাহার আঞ্চলিক অধিক্ষেত্রে যে কোন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রম সম্পাদনের উদ্দেশ্যে লিখিত আদেশ দ্বারা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করিবার ক্ষমতা অর্পণ করিতে পারিবে।
এটি গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান অনুচ্ছেদ ৩৯ অনুযায়ী আমাদের যে বাক স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে তার পরিপন্থী।
বাক স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে খারাপ দৃষ্টান্ত।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মধ্যমে বিচার ব্যবস্থা বাংলাদেশে প্রজয্য।
মোবাইল কোর্ট অধ্যাদেশ, ২০০৭ বর্তমানে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর অধীনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তার বিচারিক এখতিয়ার অনুযায়ী অপরাধ তাৎক্ষণিকভাবে আমলে নিয়ে, উপস্থিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদেশ দিয়ে থাকেন। এটি একটি সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতি।
সরকারের লিখিত অনুমতি ব্যতিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।
তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯
( ২০০৯ সনের ২০ নং আইন এপ্রিল ৬, ২০০৯) এর ধারা ০৪ অনুযায়ী
এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার থাকিবে এবং কোন নাগরিকের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাহাকে তথ্য সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে৷
সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানা তথ্য চেয়ে আবেদন করার কারনে কেন তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হলো?
Where there is a right there is a remedy.
আধিকার থাকলে তার প্রতিকার ও থাকতে হবে। অধিকার ভোগ করতে বাধা প্রাপ্ত হলে তার প্রতিকার কি হবে সেই বিধান থাকতে হবে।
তথ্য চাওয়ার অধিকার আছে কিন্তু তা প্রয়োগ যাচ্ছে না এমন অধিকারের কি আদোও প্রয়োজন আছে?
যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা নাগরিকগণের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃত এবং তথ্য প্রাপ্তির অধিকার চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ; এবং
যেহেতু জনগণ প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক ও জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক; এবং
যেহেতু জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা হলে সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারী ও বিদেশী অর্থায়নে সৃষ্ট বা পরিচালিত বেসরকারী সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে, দুর্নীতি হ্রাস পাবে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে; এবং
যেহেতু সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারী ও বিদেশী অর্থায়নে সৃষ্ট বা পরিচালিত বেসরকারী সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়।
মুনতাসীর আহমেদ রুবাইদ
জেলা প্রতিনিধি (শরীয়তপুর)
ই সময়