হোসাইন মৃদুল,
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্ৰামে ইমাম যাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। গত শুক্রবার (০৪ এপ্রিল ২০২৫) দাড়িয়াপুর খেলার মাঠ প্রাঙ্গনে উক্ত অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল । সভাপতিত্ব করেন মোঃ জহিরুল ইসলাম।আরো উপস্থিত ছিলেন ইমরুল কায়েশ রাজিব, সদস্য আহ্বায়ক কমিটি নাগরপুর উপজেলা যুবদল । হোসাইন মৃদুল, সাধারণ সম্পাদক টাঙ্গাইল জেলা নবজাগরণ দল। বিপ্লব হোসেন খান , দেলদুয়ার উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক। মোঃ ইউসুফ আলী উজ্জল ( লায়ন) , নিশাদ খান, ,সেলিম , সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ নাসির উদ্দিন, আফতাব হোসেন কোহিনুর, আলমগীর হোসেন, আমিনুর রহমান আমিন, বিপ্লব হোসেন খান, সভাপতি লাউহাটি ইউনিয়ন। অপু তালুকদার শিবলু, সদস্য আহ্বায়ক দেলদুয়ার উপজেলা। মোঃ বাবলু চৌধুরী, সদস্য সচিব দেলদুয়ার উপজেলা যুবদল।
এস.এম ফিরোজ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক দেলদুয়ার উপজেলা ।
বিপ্লব হোসেন খান বলেন - আমরা এইখানে আনন্দিত ফরহাদ ইকবালের আগমনে।এই দাড়িয়াপুরের মাটি বিএনপির ঘাঁটি। এইখানে মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান ঘাঁটি ছিল। এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল কে টাঙ্গাইল (০৫ আসন) এর নির্বাচনের শুভকামনা জানান।
ইউসুফ আলী উজ্জল (লায়ন) বলেন - আজকে আমি খুবই আবেগ আপ্লুত। আমি ছোট বেলা থেকেই শুনে আসছি যে ,এই দাড়িয়াপুর গ্ৰামেই , একমাত্র এই গ্ৰামেই ঐতিহ্যবাহী ইমাম যাত্রা অনুষ্ঠিত হয় আমাদের আশেপাশের কোনো এলাকায় এই সুনাম অর্জন করতে পারে নাই। বিভিন্ন এলাকায় আমরা এর সুনাম শুনি। প্রত্যেক বছর গ্ৰাম গঞ্জের ঐতিহ্যবাহী যাত্রা করার অনুরোধ করেন ম্যানেজিং কমিটি কে । আমরা যারা বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত, আমরা যারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী আমরা এমন কোনো কাজ করব না যাতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় । আমরা এমন কোন কর্ম করব না যাতে, তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের কোনো দুর্নাম হয় ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন - আপনারা জানেন যে আজকে দীর্ঘ ১৭ বছর পর আমরা এক নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি।যে বাংলাদেশটা হবে সকলের।যে বাংলাদেশ একক দলের হবে না।সেই বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি। আপনারা জানেন দীর্ঘ এই ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনাকে আন্দোলন সংগ্রামে পতন করতে গিয়ে ১৭ বছরে ২০ হাজার বিএনপির নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। ০১ হাজার মানুষকে গুম করা হয়েছে। একজন মানুষকে হত্যা করলে তার লাশটা পাওয়া যায়। তার আত্মীয় স্বজন লাশটা দাফন করে কবর জিয়ারত করতে পারে দোয়া করতে পারে । কিন্তু যাদের গুম করা হয় তাদের লাশটা কিন্তু আর খুঁজে পাওয়া যায় না ।মাস যায় দিন যায় বছর যায় এক বছর ,দুই বছর,সাত বছর , দশ বছর তারপরও খুঁজে পাওয়া যায় না। সন্তান চেয়ে থাকে কখন তার বাবা আসবে, মা চেয়ে থাকে কখন তার ছেলে আসবে, স্ত্রী চেয়ে থাকে কখন তার স্বামী আসবে। স্ত্রী বুজতে পারে না যে, আমার স্বামী কি মারা গেছে না কি গুম হয়েছে।সে কি সাদা শাড়ি পড়বে নাকি, রঙিন শাড়ি পড়বে এইটা বুজতে পারে না। ঠিক এরকমই নৃশংস প্রায় ১০০০ নেতাকর্মীকে শেখ হাসিনা গুম করেছে। শুধু মাত্র একটা কারণেই তার অবৈধ ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে। আপনারা জানেন সর্বশেষ ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সকল বিরোধী দল কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষ আলেম উলামা ছাত্রদের অভিভাবকরা সকলেই রাস্তায় নেমেছিল।শেখ হাসিনা নিয়ত করেছিল ২০৪৫ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে। কিন্তু আল্লাহর কি নির্মম পরিহাস সেই শেখ হাসিনা ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে মাএ ৪৫ মিনিটে তিনি বাংলাদেশ থেকে হেলিকপ্টারে পালালেন।০৩ তারিখেও তিনি বলেছিলেন শেখ হাসিনা (শেখের বেটি) পালায় না । পালিয়ে কোথায় গেলেন? পালিয়ে শশুর বাড়ি গেলেন অর্থাৎ ভারতে চলে গেলেন ভারতে তিনি ভালোই আছেন। আওয়ামী লীগের এক মন্ত্রী বলেছিল ভারত আর বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক । বাংলাদেশের মানুষ ১৭ বছর যাবৎ ভোট দিতে পারে না । কোনো জায়গায় ভোট হতো না । কেন্দ্রের যাওয়ার আগে ভোট নাই দেখে যে ভোট হয়ে গেছে । এমনকি দিনের ভোট রাতে হয়ে গেছে । ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে সেটা আমাদেরই সরকার ।
তিনি আরো বলেন - আজকে ইলেকশন নিয়ে বিভিন্ন তালবাহানা করা হচ্ছে।আগে যেমন শেখ হাসিনা বলতো আগে উন্নয়ন পরে গনতন্ত্র।এখন কেউ কেউ বলে আগে সংস্কার পড়ে নির্বাচন।অতি দ্রুত নির্বাচনের নির্বাচনের কামনা করে।
পরবর্তীতে ইমাম যাত্রার ধারাবাহিক ভাবে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
হোসাইন মৃদুল
০১৬০৭৪১১৩৮৬