ময়মনসিংহ নগরীর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন উদ্যানে অবস্থিত ‘ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ’-এর মুক্তমঞ্চ গুঁড়িয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের যৌথ ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (৩০ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা উচ্ছেদ অভিযানে উদ্যানের ভেতরে গড়ে ওঠা বেশ কয়েকটি ‘অবৈধ স্থাপনা’ সরানোর সময় সাহিত্য সংসদের মুক্তমঞ্চও ভেঙে ফেলা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে কবি-সাহিত্যিকরা বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অভিযানের শুরুতে কাচারীঘাট এলাকায় হিমু আড্ডার সামনের একটি অসম্পন্ন ভবন ভাঙতে না পেরে মুক্তমঞ্চটি গুঁড়িয়ে দেয় উচ্ছেদকারী দল। পরে ‘বিজয়ী পিঠা বাড়ি’সহ পার্কের আশপাশে থাকা আরও কয়েকটি দোকান ও স্থাপনাও বুলডোজার দিয়ে সরানো হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কবি-সাহিত্যিকরা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্কে জড়ান। কবি শামীম আশরাফ বলেন, “৪৫ বছর ধরে এই পার্কের এক কোণে আমরা নিয়মিত সাহিত্যচর্চা চালিয়ে আসছি। এখানেই বসেছে বীক্ষণের আসর, পা রেখেছেন নির্মলেন্দু গুণ, হেলাল হাফিজের মতো কবিরা।”
ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আবুল কালাম আল আজাদ বলেন, “শত শত একর সরকারি জমি প্রভাবশালীরা দখলে রেখেছে, সেখানে প্রশাসনের দৃষ্টি নেই। অথচ সাহিত্যচর্চার সামান্য জায়গাটুকু উচ্ছেদ করা হল, যা আমাদের মনে গভীর দাগ কেটেছে।”
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ আল নাকিব বলেন, “মুক্তমঞ্চের মাত্র ১০০ গজ দূরে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বাণিজ্য মেলা নামে একটি স্থাপনা ছয় মাস ধরে রয়েছে, সেটি উচ্ছেদ করা হয়নি।”
এদিকে, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আল মাজিদ বলেন, “উচ্ছেদকৃত স্থাপনাগুলোর কোনো বৈধতা ছিল না। নাগরিকদের অভিযোগের ভিত্তিতেই এগুলো সরানো হয়েছে। নগরবাসী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।” তিনি আরও জানান, অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।