ঢাবি, চবি, রাবি ও জবির পর এবার প্রকাশ্যে এসেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও সেক্রেটারি। সোমবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সংগঠনটির পল্টন ট্র্যাজেডি দিবসকে কেন্দ্র করে ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিবির’ নামক পেইজ থেকে দুইজনের পরিচয় প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। এতে ইবি ছাত্রশিবিরের সভাপতির নাম এইচ এম আবু মুসা ও সেক্রেটারি মাহমুদুল হাসান।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, সভাপতি আবু মুসা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি পাবনা জেলার দোগাছী ইউনিয়নের দ্বীপচর গ্রামে। ২০০৭ সালে তিনি পাবনার আওরঙ্গাবাদ আবাসিক হাফিজিয়া মাদরাসা থেকে কোরআনে হাফেজ হন। পরে ২০১৪ সালে পাবনা আলিয়া (কামিল) মাদরাসা থেকে দাখিল ও ২০১৬ সালে তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার টঙ্গী শাখা থেকে দাখিল সম্পন্ন করে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
অন্যদিকে সেক্রেটারি মাহমুদুল হাসান ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। মাহমুদুল হাসানের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলায়।
ছাত্রশিবিরের আদর্শ সম্পর্কে শাখা সেক্রেটারি মাহমুদুল হাসান ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানান, ছাত্রশিবিরের আদর্শ হলো ইসলামের জীবন্ত নমুনা মুহাম্মদ (সা:); মানব জীবনের সকল দিক ও বিভাগে অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। যিনি দেশপ্রেম, ন্যায়-নীতি ও ইনসাফের কথা বলেছেন। তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে শ্রেণী, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষ সবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন; মদীনা সনদই তার প্রকৃষ্ট প্রমান। তিনি এমন একটি সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যেখানে একজন নারী/পুরুষ সান'আ থেকে হাজরা মাউত পর্যন্ত (দীর্ঘ পথ) নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করেছেন; কিন্তু আল্লাহ ব্যতিত আর কারো ভয় ছিলো না। যেখানে মেষপালের জন্য একমাত্র বাঘের ভয় ছাড়া আর কোনো ভয় ছিলো না।
আত্মপ্রকাশ সম্পর্কে ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু মুসা বলেন, আমাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজে ২৮ অক্টোবর ট্রাজেডি দিবস প্রোগ্রামের প্রেস রিলিজকে কেন্দ্র করে আসলে অনেকে আত্মপ্রকাশ শব্দটা ব্যবহার করতেছে। এই আত্মপ্রকাশ শব্দটার সাথে আমি একমত নই। আসলে আমরা কখনও আত্মগোপনে ছিলাম না। সবসময় প্রকাশ্যে ছিলাম। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে আমর হল ছেড়েছিলাম। কিন্তু আমাদের কার্যক্রম কখনও থেমে থাকেনি। মাঝে কিছু সময় আওয়ামী দুঃশাসনের কবলে পড়ে হল ছাড়তে হয়েছিল। পরবর্তীতে ছাত্রদের গণবিল্পবের মধ্য দিয়ে আমরা সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে পেয়েছি। ছাত্র আন্দোলনকারীদের রক্তের বিনিময়ে আজ সকল মতাদর্শের লোক স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে। আমাদের কমিটি জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে এখনও বহাল রয়েছেন। বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম প্রকাশ্যে করেছি। এখানে আত্মপ্রকাশের কিছু নাই। শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া নিয়ে অফিশিয়াল পেইজে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিব ইনশাআল্লাহ।