২৬ জানুয়ারি (বুধবার) বেলা সাড়ে ১১ টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের উদ্যোগে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছেন একদল শিক্ষক। অন্যায় অবিচার নিপীড়নের বিরুদ্ধে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে তাঁরা এ অবস্থান কর্মসূচী করেন।
কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন দর্শন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস এবং অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান সুমন, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক জীবন খন্দকার, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি প্রমুখ।
কর্মসূচীতে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘‘শাবিপ্রবি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করছে সেটার সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করতে আমাদের এ অবস্থান। আমরা চাই ভিসির সঙ্গে তাদেরও পদত্যাগ হোক। শাবি শিক্ষার্থীরা যে যৌক্তিক বিষয়ে আন্দোলন শুরু করেছিল সেটা শুধু তাদের না প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সমস্যা রয়েছে। ডাইনিং হলে খাবারের মান নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও সমস্যা আছে।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, ‘‘একটা সময় ছিল, যখন ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢুকতে গেলে উপাচার্যরা সরকারকে জানাতো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন-তখন পুলিশ ঢুকতে পারে না। কিন্তু শাবিপ্রবির অবস্থা থেকে এটা স্পষ্ট যে, বর্তমানে উপাচার্যকে রক্ষা করার জন্য পুলিশ এবং সরকারের পেটোয়া বাহিনী ও ছাত্রলীগ সবার আগে থাকে। এতকিছুর পরও শাবির সাহসী শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন ধরে রেখেছে এটাই তাদের সফলতা।’’
বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, ‘‘দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান, গবেষণা কীভাবে আন্তর্জাতিক মানের করা যায় সে ব্যাপারে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর কোনো ভাবনা না থাকলেও, শাবি উপাচার্যকে টিকিয়ে রাখতে তিনি বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছেন। স্বৈরতন্ত্র, দুর্বৃত্তায়ন, দুর্নীতি প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত চিত্র হয়ে গেলেও এসব ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী কোনও পদক্ষেপ নেননি।”
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও বামপন্থি রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরাও শিক্ষকদের সঙ্গে অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিল।