কুমিল্লার সদর দক্ষিণে বৃদ্ধা নারীকে মারধর করে জমি দখল ও বালু ভরাটের অভিযোগ
কুমিল্লায় এক বৃদ্ধা নারীর জমি দখল করে বালু ভরাট ও হামলার অভিযোগ উঠেছে ভাতিজার বিরুদ্ধে। কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানাধীন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নং ওয়ার্ডের চাঙ্গিনী এলাকায় ৭৪ বছর বয়সী নাজমা বেগমের পৈত্রিক জমিতে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সহায়তায় বালু ভর্তি করে অবৈধ কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে আপন ভাইয়ের ছেলে ভাতিজা মেজবাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। ৭৪ বছর বয়সী ভুক্তভোগী নাজমা বেগম টাইমস নিউজকে জানান, আমার জায়গায় দখল করে মেজবাহ উদ্দিন জোর করে বালু ভর্তি করতেছে। আমি বাঁধা দেওয়ায় আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।
ভুক্তভোগী নাজমা বেগমের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন জসিম আহমেদ মজুমদার বলেন- গত ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে তাদের দখলীয় জমিতে কয়েকজন সন্ত্রাসীদের নিয়ে গেইট ভেঙ্গে মেজবাহ উদ্দিন জোরপূর্বক প্রবেশ করে। এরপর তারা বালু ভর্তি করে কার্যক্রম চালান। এসময় কিছু ফলের গাছ কেটে ফেলেন। এ ঘটনায় আমার ৭৪ বছর বয়সী বয়োবৃদ্ধ মা নাজমা বেগম তাদেরকে বাঁধা দিতে গেলে মেজবাহ তাকে ধাক্কা ধাক্কি করে ফেলে দেয়। এরপর তারা তার ওপরেই বালু ভরাট করতে থাকে। এতে ডান পায়ের গোড়ালি ও হাঁটু গুরুতরভাবে আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নাজমা বেগমকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন জসিম আহমেদ মজুমদার আরও বলেন- এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তারেরকে কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিলেও পুলিশ চলে যাওয়ার পর তারা আবারো কাজ শুরু করে। আমরা ঢাকায় থাকি। আমার মায়ের একাকিত্ব ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মেজবাহ উদ্দিন পূর্বেও তাকে নিয়মিতভাবে হয়রানি করেছেন। সে একটা মামলাবাজ। আমাদেরকে দুর্বল করতে সে একের পর এক মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণীত অন্তত ডজন খানেক মামলা দিয়ে হয়রানি করতেছে। আমরা আমার মায়ের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ চাই।
এদিকে এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে ৩-৪টি মোটরসাইকেল পাশে রাখা অবস্থায় ১২ থেকে ১৫ জন যুবককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এসময় ৪-৫ জনকে বালি ভরাটের কাজ করতে দেখা যায়। অন্যদিকে ৭৪ বছর বয়সী বয়োবৃদ্ধ নাজমা বেগমকে বালির ওপর পড়ে থাকতে দেখা যায়। আর অভিযুক্ত মেজবাহ উদ্দিনকে তার পাশেই দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এসময় সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ করতে গেলে প্রথম দিকে মেজবাহ উদ্দিন এর লোকজন বাঁধা দেওয়ার চেষ্টাও করে। পরে নিউজ নিজের পক্ষে নিতে মেজবাহ উদ্দিন সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে প্রভাব বিস্তার করতে চেষ্টা করেন। মারধরের ঘটনা অস্বীকার করে অভিযুক্ত মেজবাহ উদ্দিন বলেন, পুলিশ তাদের টাকা খেয়ে আমার জায়গায় কাজ করতে নিষেধ করলে আমি কেন কাজ বন্ধ রাখবো? পুলিশ টাকা খেয়েছে এমন কোন প্রমাণ আছে কিনা জানতে চাইলে মেজবাহ উদ্দিন এর উত্তর না দিয়ে নিজের পক্ষে সাফাই গাইতে শুরু করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নাজমা বেগম বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন। সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সেলিম জানান- অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।