শুক্রবার ২৫ জুলাই ২০২৫ ইং
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। নিম্নচাপের ফলে নদীবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে আরো জানানো হয় বঙ্গোসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার কারণে উপকূলের চারটি বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেয়া হয়েছে। এই সতর্ক সংকেত আরো বাড়তে পারে। নিম্নচাপের ফলে সারাদেশে বেশির ভাগ এলাকায় বর্ষণ অতিবর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
শুক্রবার সকাল ৯টায় আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলটিনে জানা যায়, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি পশ্চিম থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে লঘুচাপে পরিণত হয়।পরে লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, শুক্রবার ভোর ৬টায় নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় (২১ দশমিক ৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে শুক্রবার বিকেলের দিকে পশ্চিমবঙ্গ তথা বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
শুক্রবার ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা মাঝারী ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
আরো জানা যায়
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ এবং উপকূলীয় এলাকায় নিম্নচাপটি অবস্থান করছে।
উক্ত নিম্মচাপের প্রভাবে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়া ও ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলাসমূহের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধ্বসের সম্ভাবনা রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ (তিন) নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম মহানগরীর নিম্নাঞ্চলে অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা হতে পারে।
আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলেমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার থাকবে, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানা গেছে । নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।
বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, অমাবস্যা ও নিম্নচাপের কারণে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর,ঝালকাঠি,
বরিশাল,বরগুনা,পটুয়াখালী,ভোলা, চাঁদপুর,নোয়াখালী,ফেনী,
লক্ষিপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরঞ্চলসমুহ ১ থেকে ৩ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
নদীবন্দর সমূহের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে। ফরিদপুর,যশোর,কুষ্টিয়া, খুলনা,বরিশাল, ঝালকাঠি,বরগুনা,
পটুয়াখালী,কুমিল্লা,চাঁদপুর, নোয়াখালী,চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা
বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসকল এলাকার নৌবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে নোয়াখালীর হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে মানুষের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। জৈনক ব্যক্তি বলেন, জনগণের দাবী অনুযায়ী দ্রুত জিও ব্যাগ ও বেড়ীবাঁধ না হলে এখানকার মানুষ দুর্বিষহ জীবন যাপন করবে। এদিকে সাগল উত্তাল থাকার কারণে হাতিয়া থেকে চেয়ারম্যান ঘাট যাওয়ার সমস্ত নৌ- চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এস,আই/এন,ই