মিয়ানমারে জান্তা সরকার ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির তুমুল যুদ্ধের মধ্যে আরাকান অঞ্চলের জেলা শহর মংডুতে রোহিঙ্গারা মাঠে নেমেছে জান্তা সরকারের পক্ষে। গতকাল মঙ্গলবার ব্যানার, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন নিয়ে মংডু শহরে তারা প্রকাশ্যে মিছিল বের করে। রোহিঙ্গাদের যেকোন মিছিল মিটিং করা নিষিদ্ধ হলেও এই মিছিলে সরকার কোন প্রকার বাধা দেয়নি বলে জানা গেছে। এমকি ওই সময় ইন্টারনেটসহ সব ধরণের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সচল রাখা হয়। কোন কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই মিছিল লাইভও প্রচার হয়েছে।
আরাকানে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মিছিল তো দূরের কথা জনসমাবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং অকল্পনীয়। কিন্তু সেই অকল্পনীয় বিষয়ে গতকাল দেখা গেল এক প্রকার চমক। মজার ব্যাপার হলো, এই সমাবেশ ছিল আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে। তাদের হাতে ছিল আরাকান আর্মি বিরোধী ফেস্টুন। আরো মজার ব্যাপার হলো, আরাকানে বন্ধ থাকা ইন্টারনেট এই সমাবেশের সময় চালু হয়ে যায়, যাতে সমাবেশটির লাইভ প্রচার করা যায় এবং এর ভিডিও দেশে-বিদেশে পাঠানো যায়। বাস্তবে হয়েছেও তাই। অনেকের মতে এটি গভীর চিন্তার বিষয়। বিষয়টি হলো রোহিঙ্গাদের নিয়ে তৃতীয় কোন পক্ষ আবার নতুন খেলা খেলতে যাচ্ছে কিনা?
মিয়ানমারের ভেতর থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে মিয়ানমারের অধিকাংশ এলাকা আরাকান আর্মির হাতে পতন ঘটেছে। এখন শহরগুলো ঘিরে তুমুল লড়াই চলছে।
সচেতন মহলের মতে এই সময়ে জান্তাদের এখন রোহিঙ্গাদের ভীষণ প্রয়োজন হয়েছে। সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে লড়াই করার জন্য অথবা মিছিল সমাবেশ করে জান্তা সরকারের পক্ষ আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের জন্য।
বিভিন্ন সূত্রমতে উভয় সংকটে রোহিঙ্গারা। কারণ জান্তা সরকারের সেনাবাহিনী ও মিলিশিয়া যাদের হাতে রোহিঙ্গারা নির্যাতিত হয়েছে। তারাই এখন আরাকার আর্মি। তাই রোহিঙ্গাদের কাছে জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মি কেউই বিশ্বস্থ না। অন্য ভাবে বললে জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মি কেউই রোহিঙ্গাদের পক্ষে না। তাহলেকি জান্তা বাহিনী
রোহিঙ্গাদের মানব ঢান হিসেবে ব্যবহার করছে? এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের।
এদিকে গত কয়েক দিন থেকে মংডু শহরের আশেপাশে আরাকান আর্মির আক্রমনের তীব্রতা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গুলাগুলি ও মটার শেলের শব্দে কেঁপে উঠছে বাংলাদেশের এপারেও। টেকনাফের হৃীলা ও হোয়াইক্যং এলাকার মানুষের মাঝে রয়েছে এনিয়ে উদ্বেগ উৎকন্ঠা।