পটুয়াখালী জেলা বিএনপির বহুল প্রতীক্ষিত ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলকে সামনে রেখে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুপুরে কাউন্সিল নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল হক ফরাজী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তালিকা প্রকাশ করেন।
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুইজন—বর্তমান আহ্বায়ক স্নেহাংশু সরকার কুটি এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাকসুদ আহম্মদ বায়জিদ (পান্না মিয়া)। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন সাতজন—অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান টোটন, বশির আহম্মদ মৃধা, অ্যাডভোকেট তৌফিক আলী খান (খান কবির), মো. সাইদুর রহমান তালুকদার (সাইদ তালুকদার), মো. মনিরুল ইসলাম লিটন এবং দেলোয়ার হোসেন খান নান্নু।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ২৩ বছর পর এই সম্মেলনের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য জেলা কমিটি গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি। আগত কাউন্সিলকে ঘিরে জেলার রাজনৈতিক পরিবেশে দেখা দিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সড়ক ও দেয়ালজুড়ে ঝুলছে প্রার্থীদের পক্ষে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন। নেতাকর্মীদের সরব অংশগ্রহণে সরগরম হয়ে উঠেছে বিএনপির কার্যালয়।
নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল হক ফরাজী জানিয়েছেন, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা হবে এবং কাউন্সিলরদের সরাসরি গোপন ভোটের মাধ্যমেই জেলা বিএনপির নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। এ লক্ষ্যে নির্বাচন পরিচালনার সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
আগামী ২ জুলাই (বুধবার) পটুয়াখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় অধিবেশনের মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে শুধু দলীয় অঙ্গনেই নয়, পুরো জেলায় সৃষ্টি হয়েছে এক নতুন রাজনৈতিক আবহ।
২০০২ সালের পর এবারই প্রথম পটুয়াখালী জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বরিশাল বিভাগে এই ধরনের সম্মেলনের নজিরও এটিই প্রথম। বিএনপির পুনর্গঠন ও আগাম আন্দোলনের রূপরেখায় এই কাউন্সিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা।