অবৈধ সম্পদ অর্জন, তথ্য গোপন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে পিরোজপুরের সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার আবদুর রব এবং তার স্ত্রী নাছরিন আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল কমিশনের সরবরাহ করা ফরমে সম্পদ বিবরণী দাখিলের সময় নাছরিন আক্তার ৬৬ লাখ ৫০ হাজার ৪০৪ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, তার নামে রয়েছে ২ কোটি ৯৫ লাখ ৯১ হাজার ৯০ টাকা ৬০ পয়সা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ। যা বৈধ আয়ের তুলনায় দুই কোটি ৪৫ লাখ ৪৫ হাজার ৭০২ টাকা বেশি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আবদুর রব সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন। ওই অর্থ তিনি স্ত্রীর নামে বিনিয়োগ করেন এবং সম্পদের প্রকৃত উৎস ও মালিকানা গোপনের উদ্দেশ্যে স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ২০০৯ সালে সাব-রেজিস্ট্রার পদে যোগদানের আগে আবদুর রব একজন কলেজ শিক্ষক ছিলেন এবং তার নামে উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদ ছিল না। তবে চাকরিজীবনের মধ্যভাগে এসে তিনি এবং তার স্ত্রী বিপুল সম্পদের মালিক হন। নাছরিন আক্তার নিজেকে শিক্ষক ও ব্যবসায়ী দাবি করলেও তার ব্যবসার বৈধ কোনো উৎস বা প্রমাণপত্র দেখাতে পারেননি।
এই ঘটনায় দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আরিফ হোসেন বাদী হয়ে দুজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা অনুযায়ী মামলা দায়ের করেন।
দুদক কর্মকর্তারা জানান, প্রাপ্ত তথ্য ও অনুসন্ধানে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে, যা পরবর্তী তদন্তে আরও যাচাই-বাছাই করা হবে।