বরগুনার তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকেই গড়ে উঠেছে ময়লার ভাগাড়। হাসপাতালের প্রবেশপথের পাশেই বর্জ্যের স্তুপ জমে থাকায় রোগী ও স্বজনদের নাকে রুমাল চেপে ভিতরে ঢুকতে হচ্ছে। দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উৎপাত এবং পশু-পাখির বিচরণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে কয়েকগুণ। অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি দেখেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরাসরি হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, মূল প্রবেশপথের পশ্চিম পাশে ময়লার স্তূপ জমে আছে দীর্ঘদিন ধরে। এখানে ফেলা হচ্ছে রোগীদের ব্যবহৃত ওষুধের খোসা, চিকিৎসা বর্জ্য, খাবারের উচ্ছিষ্ট ও নানান ধরণের আবর্জনা। এসব ময়লার ওপর ভিড় করছে কুকুর, পাখি, মাছি ও মশা। চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতালের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে।
রোগীর স্বজন সুমা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রবেশপথেই ময়লার ভাগাড়! আমরা রোগী নিয়ে এসেছি, অথচ নিজেরাই অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। নাক চেপে ভিতরে ঢুকতে হয়।” রোগী নজরুল ইসলাম জানান, “হাসপাতালের মতো জায়গায় এমন ময়লা থাকবে, এটা অকল্পনীয়। দুর্গন্ধে টিকে থাকা যায় না। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ২০১৩ সালে তালতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ২০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পর থেকে এখানে প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের ময়লা ব্যবস্থাপনার কোনো সুসংহত ব্যবস্থা নেই। বর্জ্যগুলো হাসপাতালের মধ্যেই ফেলে রাখা হয়। ফলে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মতো স্পর্শকাতর স্থানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকলে ডেঙ্গু, টাইফয়েড, ডায়রিয়া ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ দ্রুত ছড়াতে পারে।
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য প্রশাসক ডাঃ একেএম মনিরুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি জেনেছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে ময়লা অপসারণ করা হবে।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু অপসারণ নয়, স্থায়ীভাবে ময়লা ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি। নয়তো এই হাসপাতাল চিকিৎসা নেয়ার জায়গা নয়, বরং রোগ ছড়ানোর উৎসে পরিণত হবে।