সব সময় সব খানে


শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬

১৬ কার্তিক ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
১৬ কার্তিক ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> পঞ্চগড়ে এইচএসসির ফলাফলে দুই কলেজে পাস করেনি কোনো শিক্ষার্থী।

>> সিলেটের এমসি কলেজে এইচএসসিতে পাসের হার ৯৮.০৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮৮ শিক্ষার্থী।

>> আকরাম হত্যার পর একে একে মুখ খুলছেন নারীরা বিয়ের নামে লাখ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগ মারুফের বিরু‌দ্ধে

>> সিরাজগঞ্জে যুবলীগের ঝটিকা মিছিলের পর চার পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

>> ভাঙ্গায় ট্রাকভর্তি ২৫০ বস্তা সার জব্দ: ডিলার আটক

>> যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

>> হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফাহিম ফয়সাল

>> মানুষের কল্যাণে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান লালমনিরহাট যুবদল নেতাদের

>> ভাঙ্গায় সাবেক চেয়ারম্যান লাভলুর অভিযোগের প্রতিবাদে প্রবাসী মিঠুর সংবাদ সম্মেলন

>> পেনসিলভানিয়ায় কোম্পানীগঞ্জ সোসাইটির নতুন কমিটি, সভাপতি রাকিব, সম্পাদক সোহাগ

আপনি পড়ছেন : বরগুনা

তালতলীতে রাজনৈতিক ও পুলিশের ছত্রছায়ায় কবিরের ইয়াবা সাম্রাজ্য!


বরগুনা জেলা সংবাদদাতা

eshomoy.com || 2025-07-11
তালতলীতে রাজনৈতিক ও পুলিশের ছত্রছায়ায় কবিরের ইয়াবা সাম্রাজ্য!
ইয়াবা ব্যবসায়ী মো. কবির খাঁন - ইসময়

বরগুনার তালতলী উপজেলায় ভয়াবহভাবে বিস্তার লাভ করছে মাদকের নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্কের মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়নের আগা পদ্মা গ্রামের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী মো. কবির খাঁনের নাম। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১০ বছর ধরে তিনি কক্সবাজার থেকে সড়ক ও নৌপথে ইয়াবার চালান এনে তালতলীসহ বরগুনার বিভিন্ন উপজেলায় সরবরাহ করে যাচ্ছেন। কিশোর, যুবক এমনকি শিক্ষার্থীরাও তার মাদক বিস্তারের শিকার হয়ে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কবির খাঁন রাজনৈতিক প্রভাব এবং পুলিশের নিরবতায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে অবাধে ইয়াবা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে আমতলী, তালতলী ও বরগুনা গোয়েন্দা শাখায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

গোপন আস্তানা ও ভয়ংকর নেটওয়ার্ক

তালতলী শহরে কবির খাঁনের তিনটি গোপন আস্তানা রয়েছে। একটিতে ইয়াবা মজুদ, অন্যটিতে লেনদেন, আরেকটিতে থাকার ব্যবস্থা ও পরিকল্পনা সভা চলে। প্রত্যেক এলাকাতেই তার লোকজন ছড়িয়ে আছে। শহরে তার ইয়াবা বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছেন ঠংপাড়ায় শহীদুল, কাঠ বাজারে জলিল, বাঁধঘাটে হনুফা, নকরি খেয়ায় সরোয়ার, উপজেলা সড়কে রাজু, ভাইজোড়ায় বনি আমিন, ও লঞ্চঘাট এলাকায় পারভেজ ও রাজিবসহ অন্তত ১০ জন সক্রিয়ভাবে ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত।

রাজনৈতিক রং বদল করে নিরাপদ কবির

সূত্র মতে, কবির প্রথমে যুবলীগের এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় ছিলেন। গত বছর ৫ আগস্টের পর তিনি ভোল পাল্টে বিএনপি ঘনিষ্ঠ হয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তালতলী থানার ডিএসবি-র এক এসআইকে মাসোহারা দেন। এ কারণে অভিযান শুরুর আগেই খবর পেয়ে যান কবির ও তার বাহিনী।

নিরব প্রশাসন, ক্ষুব্ধ জনতা

স্থানীয়রা জানায়, তারা প্রতিবাদ করতে চাইলেও কবিরের লোকজন তাদের গতিবিধি নজরদারি করে। পুলিশ সব জানলেও ব্যবস্থা নেয় না। সম্প্রতি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মাহবুবুল আলম মামুন তালতলী শহরে মাইকিং করে জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা করেন, কিন্তু পুলিশের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

গত মঙ্গলবার রাতে নৌবাহিনী অভিযান চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজাসহ পারভেজ ও রাজিবকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করলেও পরে তারা “নিখোঁজ” হয়ে যায়। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাজালাল বলেন, “কবির খাঁনের নাম শুনেছি, তবে তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। শহীদুল নামের এক ইয়াবা ব্যবসায়ীর খোঁজে আমরা আছি।”

আমতলী-তালতলী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ তারিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “তালতলীতে মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কবির খাঁন নামে কেউ মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকলে, তথ্য প্রমাণ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”