বরগুনার তালতলী উপজেলার শুভসন্ধ্যা ও নিদ্রা সমুদ্রসৈকত থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং ভয়াবহ নদীভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকাল ১০টায় শুভসন্ধ্যা সৈকত এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন উদ্যোক্তাদের আয়োজনে এ মানববন্ধন হয়। এতে তিন শতাধিক নারী–পুরুষ অংশ নেন।
জানা গেছে, শত বছর ধরে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা শুভসন্ধ্যা ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও পাশের নিদ্রারচর সৈকত এলাকাটি ঝাউগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছে সমৃদ্ধ। এর মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে প্রতিবছর হাজারো দেশি–বিদেশি পর্যটক ভিড় করেন। ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে পর্যটননির্ভর জীবিকা ও স্থানীয় বিনিয়োগ।
কিন্তু সম্প্রতি একটি প্রভাবশালী চক্র সৈকতসংলগ্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে—যার ফলে দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে ভাঙন। এতে ঝুঁকির মুখে রয়েছে পর্যটন কেন্দ্র, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ এবং আশপাশের গ্রামের ঘরবাড়ি। ইতোমধ্যে নলবুনিয়া, নিদ্রারচর, তেতুঁলবাড়িয়া ও জয়ালভাঙা এলাকার বহু বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেক পরিবার।
অভিযোগ রয়েছে—উপজেলা প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রভাবশালী চক্রটি নির্বিঘ্নে বালু উত্তোলন করছে, ফলে দিন দিন শুভসন্ধ্যা সৈকত ও আশপাশের এলাকা বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে।
এ পরিস্থিতি বন্ধের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচ্চু। বক্তব্য দেন ইউপি সদস্য সহিদ আকন, মুনসুর আলী বাবুল, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ (তালতলী–আমতলী) সমন্বয়ক আরিফুর রহমান, পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটির সমন্বয়ক শাহজাহান শেখ, আলমগীর হাওলাদার ও জাহাঙ্গীর হাওলাদার।
বক্তারা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও নদীভাঙন রোধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। সময় ক্ষেপণ হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেন তারা।
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সেবক মণ্ডল বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসন সজাগ রয়েছে। এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি আরও জানান, নদীভাঙন রোধে পর্যটন করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হবে।