বরগুনার বামনা উপজেলা শহরের একটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নার্স সহকারীকে জনৈক ব্যবসায়ী বাবুল হাওলাদার (৪৮) কর্তৃক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ।
বুধবার (১৬ আগস্ট) বরগুনা বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আরও পড়ুন- বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও ইয়াবা সহ দুর্ধর্ষ ডাকাত রাসেল ও তার সহযোগী র্যাবের হাতে আটক
মামলার বিবরণে জানা যায়, বামনা উপজেলার পূর্ব শফিপুর গ্রামের মৃত শুক্কুর হাওলাদারের পুত্র মো. বাবুল হাওলাদার (৪৮) বিভিন্ন সময় পথেঘাটে ও হাসপাতালে বসে আকার ইঙ্গিতে খারাপ প্রস্তাব দিয়ে যৌন হয়রানি করে আসতে থাকে। গত ৯ আগস্ট বিকাল ৪ টার দিকে ইসলামীয়া হাসপাতাল এ্যান্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ওয়েটিং রুমের পশ্চিম পাশে ডাক্তারের রুম প্রস্তুত করার সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওৎপেতে থেকে বাবুল হাওলাদার ডাক্তারের রুমে প্রবেশ করে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিতে অশোভন আচরনসহ কাম লালসা চরিতার্থ করার জন্য কু-প্রস্তাব দেয়।
তার কু-প্রস্তাবে রাজী না হলে ওই নারীকে ঝাপটিয়ে ধরে পড়নের কাপড়চোপর টেনে খুলে ফ্লোরে শোয়াইয়ে ধর্ষন করার চেষ্টা করে। ধর্ষণচেষ্টার শিকার ওই নারী দস্তাদস্তি করে ডাক চিৎকার দিলে আসামি বাবুল হাওলাদার ক্ষিপ্ত হয়ে কিল, ঘুষি, লাথিসহ মাথার চুল টেনে ধরে শারীরিক নির্যাতন করে। ঘটনাস্থলে লোকজন উপস্থিত হতেই বাবুল হাওলাদার পালিয়ে যায়। ধর্ষণচেষ্টার শিকার ওই নারীকে স্থানীয়রা বামনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়া ভর্তি করে।
আরও পড়ুন- আমাদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের সঙ্গে জড়িত : ভারত
এব্যাপারে মোকাম বরগুনা বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধীত ২০০৩) এর ৯(৪) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ডিবি পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

ধর্ষণচেষ্টার শিকার ওই নারী বলেন, ১৪ আগস্ট ১০ টার দিকে বামনা থানায় যাওয়ায় পরে সারাদিন বসাইয়া রেখে কর্তব্যরত অফিসার ইনচার্জ ওসি মামলা না নিয়ে। সে আমাকে ট্রাইব্যুনালে মামলা করার পরামর্শ দেন।
আরও পড়ুন- বরগুনায় খাল থেকে ভাসমান অবস্থায় বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার
ইসলামীয়া হাসপাতাল এ্যান্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের পরিচালক এইচ এম আল আমীন বলেন, বাবুল হাওলাদার এলাকার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। এরকম একটা জগন্য কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে এলাকায় বুক ফুলিয়ে বেড়াচ্ছে। মেয়েটি ধর্ষণ চেষ্টার প্রতিকার চাইতে গেলে বাবুল হাওলাদার অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। মেয়েটি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এ ব্যাপারে বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম বলেন, মেয়েটি থানা এসেছিল। আমি বলেছি ধর্ষণের মত কোন ঘটনা ঘটলে মামলা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। কিন্তু তারা শুধুমাত্র একটা জিডি করে চলে গেছেন।

আরও পড়ুন- বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তার চেতনাকে মুছে ফেলতে পারেনি’-আব্দুল কুদ্দুস
ই-সময়/আরএম/এমআরএম